১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানে বাউল গানের আসরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মারা যান ১০ জন মানুষ এবং আহত হন আন্তত ২৫০ জন। আগামীকাল ৬ মার্চ এই উদীচী বোমা হামলার দুই যুগ পূর্ণ হবে।
বোমা হামলার দুই যুগ পার হয়ে গেলেও এখনো বিচারকাজ শেষ হয়নি। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরণ নিয়ে দুটি পৃথক মামলা হয়। মামলার তদন্ত করে সিআইডি। ২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায় ঘোষণা হলে সব আসামি খালাস পেয়ে যায়। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করে। মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
উদীচী হত্যাকাণ্ডের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। “দুই যুগেও হয় না বিচার, এই লজ্জা ও অপমান কার”– এই শ্লোগানকে ধারণ করে ৪, ৫ ও ৬ মার্চ তিনদিনের এ কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন হচ্ছে যশোরে।
কর্মসূচির প্রথম দিন ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় ‘রং তুলিতে প্রতিবাদ’ শীর্ষক আয়োজনের উদ্বোধন করেন বোমা হামলায় নিহত নাজমুল হুদা তপনের বোন নাজমুন সুলতানা বিউটি এবং বোমা হামলায় নিহত নূর ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান বেগম।
তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আজ ৫ মার্চ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য শ্রেণি পেশার মানুষ, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, ৬ই মার্চ বিকেল তিনটায় যশোর টাউন হল ময়দানে নির্মিত শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হবে।
ওইদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে যশোর টাউন হল ময়দানে প্রতিবাদী সমাবেশ, প্রদীপ প্রজ্জ্বালন, মশাল মিছিল ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া, বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত যশোর হত্যাকাণ্ডের ছবির প্রদর্শনীও থাকবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস ও ভয়াবহ বোমা হামলারগুলোর অন্যতম যশোর বোমা হামলা। এটিই ছিল স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম প্রকাশ্যে বোমা হামলার ঘটনা।








