চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ের তাণ্ডবে দুই গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এ সময় ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার স্ত্রী।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার খাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ঝড় শুরু হলে ঘরের দেয়াল ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই আকমান আলীর মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী আহত হন।
ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার অন্তত ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়ায় কয়েকটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। উদয়পুর গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম (৬০) বলেন, ৩০-৩৫ বছর আগে এমন ঝড় দেখেছিলাম। বুধবার রাতে তারাবির নামাজ শেষে হঠাৎ প্রবল বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।
ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে কলেজছাত্রী সাবিয়া খাতুন বলেন, ঝড়ে সবকিছুই প্রায় শেষ হয়ে গেছে। গোয়ালঘরের ওপর গাছ পড়ে গরু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গরুটিকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল এবং হারদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।








