সম্প্রতি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের রাস্তায় দুই সুইডিশ ফুটবল সমর্থককে গুলি করে হত্যা করা আততায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে বেলজিয়াম পুলিশ।
আজ ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় বেলজিয়ামে ব্রাসেলসের একটি ক্যাফেতে ২ জন সুইডিশ ফুটবল সমর্থককে হত্যাকারী বন্দুকধারীর সন্ধানে অভিযানে গিয়ে অন্য তাকে গুলি করে হত্যা করেছে ব্রাসেলস পুলিশ।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের গুলিতে নিহত ৪৫ বছর বয়সী আবদেসালেম লাসাউয়েদ নামক এই আততায়ীর স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের হামলায় ২ জন সুইডিশ নাগরিক নিহত এবং তৃতীয় একজন আহত হয়েছেন। ব্রাসেলসে তখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
হামলার পর একটি ভিডিও বার্তায় হামলাকারী বলেন, আল্লাহু আকবর। আমার নাম আবদেসালেম আল গিলানি এবং আমি আল্লাহর একজন যোদ্ধা। আমি ইসলামিক স্টেট থেকে এসেছি। যে আমাদের ভালোবাসে আমরা তাকে ভালোবাসি এবং যারা আমাদের ঘৃণা করে তাকে আমরাও ঘৃণা করি। আমরা আমাদের ধর্মের জন্য বাঁচি এবং আমরা আমাদের ধর্মের জন্য মরতেও পারি।
ইসরায়েলে হামাসের হামলার জেরে আমেরিকায় ৬ বছর বয়সি এক মুসলিম ফিলিস্তিনি-মার্কিন শিশুকে হত্যার ঘটনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই ওই জঙ্গী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও ভিডিও বার্তায় জানায়। ধারণা করা হচ্ছে নিহত হামলাকারী বন্দুকধারীকে তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি বেলজিয়ামে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।
বেলজিয়ামের ইউরো ২০২৪ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্টেডিয়াম থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বুলেভার্ড ডি’ইপ্রেস নামক স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই স্টেডিয়ামে তখন বেলজিয়াম ইউরো ২০২৪ ফুটবল টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের জন্য বেলজিয়াম এবং সুইডেনের খেলা চলছিল। হামলার গুঞ্জনের মাঝে প্রথমে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, দুই সুইডিশ ফুটবল সমর্থকের খুন হওয়ার ঘটনায় বিচলিত হয়ে পড়েন সুইডেনের ফুটবলাররা। হাইফটাইমে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন তারা। এই আবহে দ্বিতীয়ার্ধ্বে তারা ম্যাচ খেলতে চাননি। এদিকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেন বেলজিয়ামের ফুটবলাররাও। পরে উভয়দলের ফুটবলারদের চাওয়া অনুসারে বাতিল হয় ম্যাচটি।
এদিকে ঘটনার পরই সুইডিশ সমর্থকদের মাঠ ছেড়ে যেতে বারণ করা হয়। রাস্তায় বের হলে তাদের ওপর আবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামেই কড়া নিরাপত্তায় সুইডিশ সমর্থকদের রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় পুলিশের সবুজ সংকেত মিললে সুইডিশ সমর্থকদের স্টেডিয়াম থেকে ধীরে ধীরে বের করে আনা হয়।
এদিকে এই ঘটনায় স্বভাবতই আতঙ্কিত ছিলেন সুইডিশ ফুটবলপ্রেমীরা। অনেককেই স্টেডিয়ামের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। খেলা দেখতে এসে এহেন পরিস্থিতিতে পড়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন অনেকেই।








