বিদেশে যাওয়া হলো না দুই বন্ধু সাঈদী ও আজমির। তার আগেই কার্ভাডভ্যানের ধাক্কায় দুঃখজনক ভাবে প্রান হারালেন তারা। চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিমেন্টবাহী কার্ভাডভ্যানের সাথে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এই দুই বন্ধু নিহত হয়ছেন।
সোমবার (১৩ ফব্রেুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে দুই বন্ধু বান্দরবানে বেড়াতে যাবার উদ্দশে বেরিয়ে যান। কুয়াশাচ্ছন্ন সাকালে ঈদগাঁও কলেজ গেট ব্রীজ এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে তারা নিহত হয়েছেন বলে জানান প্রত্যক্ষর্দশীরা। নিহতদের একজন চলতি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কেটেছিলেন। অপরজন, মেয়াদ বাড়াতে দেয়া পার্সপোর্টটি হাতে পেলে আবার প্রবাসে যাবার বন্দোবস্ত করেছিলেন।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের চান্দেরঘোনা কাটামোরা এলাকার মৃত আব্দুস সমদের ছেলে সৌদি প্রবাসী নুরুল আজিম (২১) ও আবুল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (২০)।
ঈদগাঁও থানার ওসি মো. গোলাম কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ দুইটি অনাপত্তির ভিত্তিতে স্বজনেরা বাসায় নিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে এ নিয়ে কাজ করছে রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ।
কলেজ গেইট এলাকার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ সেলিম ও জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা দেখে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে আসেন ঈদগাঁও থানার এসআই রশিদ। দূর্ঘটনায় রাস্তার উভয়পাশে যান চলাচল আটকে যায়। প্রশাসনিক অনুমতিতে মরদেহ সরানোর পর দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দূুটি সরানো হলে ঘন্টাখানেক পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘটনাস্থলে আসা চাঁন্দেরঘোনা এলাকার লোকজন জানায়, নিহত দুই জনই আগে থেকেই অনিয়ন্ত্রিত স্পিডে বাইক চালাতো।
স্থানীয় সমাজকর্মী মিছবাহ উদ্দিন জানান, নুরুল আজিম ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদী দুই বন্ধু। কাছের প্রতিবেশী হিসেবে আসা-যাওয়া, নামাজসহ নানা কারণে দিনে একাধিকবার দেখা হতো। সকালে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ে লাশ হয়ে ঘরে ফিরেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বিদেশ চলে যাবার জন্যে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে দিয়েছে। আর নুরুল আজিম নববিবাহিত। ২৭ ফেব্রুয়ারি তার ফ্লাইট। একটি দুর্ঘটনা দুটি পরিবারের সকল স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
রামু হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচন্ড রকমের কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল সড়কের কিছু কিছু এলাকা। দূর্ঘটনাস্থলও কুয়াশায় ঢাকা থাকায় মোটরসাইকেল ও কাভার্ডভ্যানটি মুখোমুখি হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করলেও মরদেহগুলো পায়নি। স্বজনরা এদের বাসায় নিয়ে গেছে বলে জেনেছি।







