ফেনীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই সাবেক সমন্বয়ক এবার নাম লেখালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলার আহ্বায়ক কমিটিতে। বিতর্কিত দু’জনকেই আহ্বায়ক কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ওমর ফারুক শুভর বিরুদ্ধে ফেনী আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেল খেটেছেন। অপরদিকে, সিভিল সার্জন অফিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক চাকরি প্রার্থীর কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির ঘটনায় নাহিদ রাব্বির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ মামলা দায়ের করে। দু’জনকে এনসিপির জেলা কমিটিকে নাম দেখে বিভিন্ন মহল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
ওমর ফারুক শুভ ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে স্বপদে বহাল করার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবির ১৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে প্রতারণা, চাঁদাবাজির মামলায় ফেনী মডেল থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে, ফেনীর সিভিল সার্জন অফিসে সরকারি চাকরি জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনার প্রধান আসামি পরশুরাম উপজেলার সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বিকে ফেনী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ফেনীর সিভিল সার্জন অফিসে সরকারি চাকরি জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির একটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১৯ জুন রাতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া এ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বি (২৮) ও চাকরি প্রার্থী আব্দুল কাদের। নাহিদ রাব্বি পরশুরাম পৌরএলাকার কোলাপাড়া এলাকার নুরুন্নবীর ছেলে ও কাদের অনন্তপুর এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে। এতে বিভিন্ন মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।
এনসিপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফেনী জেলা শাখার আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত ও সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক। কমিটিতে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত নাহিদ রাব্বি ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত ওমর ফারুক শুভকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই সমন্বয়ক হাইকোর্ট থেকে মামলার জামিন নিয়েছেন।
জানা যায়, বর্তমানে ওই মামলার অভিযুক্ত নাহিদ রাব্বিসহ দুই আসামির ভয়েস কল রেকর্ড সিআইডির ঢাকার ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা নাহিদ রাব্বির বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে, ওমর ফারুক শুভ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় এনসিপির নেতারা তার কাজ দেখে নির্বাচিত করেছেন।
এনসিপির ফেনী জেলার আহ্বায়ক কমিটির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, অনুমোদিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ রাব্বি ও ওমর ফারুক শুভর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওমর ফারুক শুভ ও নাহিদ রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের মামলার বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যালোচনা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে, শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।







