ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লুর গ্রেপ্তারের পর থেকে তুরস্কে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে। এর আগে চার দিনের জন্য বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
বিবিসি জানায়, ইমামোগ্লু, যিনি ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর সদস্য এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই সপ্তাহের শেষে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণার কথা ছিল। তবে গত বুধবার তিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগে আটক হওয়া ১০৬ জনের মধ্যে একজন ছিলেন।
এর পর থেকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ “প্ররোচনামূলক” সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভের জবাবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার রাজনৈতিক বিরোধীদের অভিনয় করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা এতটাই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে যে তারা আমাদের পুলিশকে আক্রমণ করছে, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে ইস্তাম্বুল সিটি হলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে সিএইচপি নেতা ওজগুর ওজেল তাদের বিরুদ্ধে “সরকারি অভ্যুত্থান” করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন এবং বলেছেন যে মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছেন, পুলিশ ২৬১ জন “সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট” চিহ্নিত করেছে, যারা অনলাইনে “জনগণকে ঘৃণা ও শত্রুতা করতে উৎসাহিত” এবং “অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা” দেওয়ার অভিযোগে পোস্ট করেছে। তিনি বলেন, ৩৭ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের আটকানোর চেষ্টা চলছে।
ইমামোগ্লু ও অন্যান্যদের গ্রেপ্তার গত কয়েক মাস ধরে চলা একটি বড় ধরনের অভিযানের অংশ, যেখানে বিরোধী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং বিনোদন শিল্পের ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, ভয়ভীতির এই অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হতে পারে।বিরোধী নেতারা বলছেন, এই গ্রেপ্তারগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।







