হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই উদ্যোগে কে পাশে দাঁড়াচ্ছে আর কে দূরে থাকছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ।
রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়লেও, যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে এখনও পর্যন্ত বড় মিত্রদের সাড়া সীমিতই দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান এই কৌশলগত জলপথটি মার্কিন ও তার মিত্রপন্থী দেশগুলোর জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় এক হাজার তেল ট্যাংকার আটকা পড়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ৭টি দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, অনেক দেশ আমাকে বলেছে তারা আসার পথে আছে। কেউ কেউ খুব উৎসাহী, আবার কেউ কেউ নয়।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, এদের মধ্যে এমন কিছু দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি… অথচ তারা খুব একটা উৎসাহ দেখাল না। আমরা মনে রাখব যারা সাহায্য করবে না।
তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি এবং বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
কেউ কি যোগ দিচ্ছে?
ট্রাম্প প্রায় ৭টি দেশকে (চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ) যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সরাসরি যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর নিশ্চিত ঘোষণা করেনি।
- প্রত্যাখ্যান করেছে বা অস্বীকার করেছে: জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, পোল্যান্ড, স্পেন, ইতালি সামরিকভাবে জড়িত হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা (যেমন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস) বলেছেন, এতে কোনো সামরিক অংশগ্রহণ থাকবে না।
- নীরব বা অনীহা দেখিয়েছে: ফ্রান্স কিছুটা আলোচনা করলেও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। চীন নীরব রয়েছে (ইরানের সঙ্গে তাদের তেল বাণিজ্য অব্যাহত থাকায়)। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে, কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য ব্যাপক কোনো যুদ্ধে জড়াবে না।
- ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্র: বেশিরভাগ ন্যাটো সদস্য (ইউরোপীয় দেশসহ) সরাসরি জড়াতে অস্বীকার করেছে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ, কিন্তু অন্যদের জন্য উন্মুক্ত।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, সাহস থাকলে ট্রাম্প নিজের জাহাজ পাঠান।








