যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভুল এবং তিনি দ্রুত নতুন শুনানির আবেদন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে রায় দেয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়। এটি একটি অপরাধ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়টি ভুল। আমি অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করব। ক্ষমতায় ফিরে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশের লক্ষ্য ছিল অস্থায়ী আইনি মর্যাদায় থাকা বা অনথিভুক্ত অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়া সীমিত করা।
তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে উল্লেখ করে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির এখতিয়ারভুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের অধিকারী। রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে দেশের জন্য ‘খুবই খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে এবং জনমতও বর্তমানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট খুব কম ক্ষেত্রেই নিজস্ব রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করে। ফলে ট্রাম্পের নতুন শুনানির আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের সমর্থন পেলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগটি আদালতে টেকেনি।
এদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী সিসিলিয়া ওয়াং বলেন, আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে আপনি একজন নাগরিক—এই মৌলিক আমেরিকান প্রতিশ্রুতিকেই আদালত পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, গত বছর প্রকাশিত মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট এবং পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি-এর এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা হলে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু নাগরিকত্ব ছাড়া জন্ম নিতে পারে। এতে ২০৪৫ সালের মধ্যে অনথিভুক্ত জনসংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।







