ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীনের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে চীনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার প্রস্তাবও দিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে শুধু চীন নয়, যে কোনো দেশই কঠোর শুল্কের মুখে পড়বে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি কোনো দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র দেয়, তবে তাদের সব পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, কোনো ছাড় থাকবে না।”
সাক্ষাৎকারে চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বেইজিংকে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে।
তিনি দাবি করেন, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘ম্যানপ্যাডস’ দিতে পারে, এমন খবর তিনি শুনেছেন, যদিও তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেন। তবে এমনটি ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, চীন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি।
শুল্ক হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্প চীনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে এবং কম দামে তেল বিক্রি করতেও তারা প্রস্তুত।
এই প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে এটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।







