যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে ২১ মাসব্যাপী যুদ্ধ চলার পর, গাজা সংকট নিরসনে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
রোববার (৭ জুলাই) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংঘাত অবসানের বিষয়ে নেতানিয়াহুর সাথে তিনি খুব দৃঢ় ছিলেন এবং তিনি মনে করেন, এই সপ্তাহে আমাদের একটি চুক্তি হবে।
নেতানিয়াহু বিমানযাত্রার পূর্বে বলেন, আমরা সেই চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি, যা নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে আলোচনা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ফলে আমরা এই প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনের দিকে অগ্রসর হতে পারব।
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা রবিবার সন্ধ্যায় কাতারে পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে, যেসব মূল মতপার্থক্য এতদিন চুক্তির পথে বাধা হয়ে ছিল, সেগুলি এবারও অতিক্রম করা সম্ভব হবে কিনা তা অনিশ্চিত।
ট্রাম্পের আমলে নেতানিয়াহুর এটি তৃতীয় হোয়াইট হাউস সফর হলেও, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।
গাজায় বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধ বিরতির পক্ষে নয়, তারা চায় পুরোপুরি ভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক। অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলে কয়েকটি বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়, যেখানে সরকারকে চাপ দেওয়া হয় গাজা থেকে আনুমানিক ৫০ জন বন্দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে।
ইরান বিরোধী অভিযানে জনসমর্থন পেয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে এখন একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। এদিকে হামাসকেও এই হামলার পর আরও দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে, ফলে চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়ার বিষয়েও তারা এখন আরও প্রস্তুত হতে পারে।
তবে আলোচনার প্রধান বাধা হচ্ছে, ইসরায়েল সাময়িক যুদ্ধবিরতির পক্ষে হলেও স্থায়ী ভাবে যুদ্ধ বন্ধ চায় না, যেখানে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহার দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে ৬০ দিনের জন্য ২৮ বন্দির (১০ জীবিত, ১৮ মৃত) পাঁচ ধাপে মুক্তি, সেনা প্রত্যাহার, এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। দশম দিনে হামাস জীবিত বন্দিদের অবস্থা জানাবে, আর ইসরায়েল বন্দি ফিলিস্তিনিদের তথ্য দেবে। এই বন্দি বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিমুক্তিও থাকবে।
তবে হামাস এই প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও গাজায় জাতিসংঘকে সহায়তা তদারকির অনুমতি এবং সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
অনেকেই ১২ দিনের সাম্প্রতিক যুদ্ধকে গাজা যুদ্ধ শেষ করার অনুকূল পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন এবং এই প্রস্তাব কার্যকর হলে গাজায় মানবিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন।







