আন্তর্জাতিক

পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ নিয়ে কথা বলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনের হয়ে আলোচনার জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’র তথ্য সূত্রে, হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে যা করা প্রয়োজন, তা করতে তিনি প্রস্তুত। বৈঠকে জেলেনস্কি থাকুন বা না থাকুন, তাতে তার আপত্তি নেই।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে শি জিনপিংকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আগামী মাসে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং আগ্রহী হলে তিনি এ বৈঠকে বসবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে, রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় জেলেনস্কির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, জেলেনস্কি কী বলছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। তার মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ অনেক আগেই শেষ করা উচিত ছিল। ইউক্রেনের হয়ে আলোচনার জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ট্রাম্পকে ইতিহাসের ভুল পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। তার দাবি, নিষেধাজ্ঞার চাপ কমানোর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা সম্প্রতি ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানেও বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পেতে সমস্যায় পড়ছে ইউক্রেন।

সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের দুই দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর এ অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। তবে স্টারলিংক সেবা ব্যাহত হওয়ার পেছনে কে দায়ী, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিষয়টি জানতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক এর আগে বলেছিলেন, স্যাটেলাইট সেবায় ধীরগতির জন্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জেলেনস্কিকে সতর্ক করে বলেছেন, সত্য নয় এমন অভিযোগ করার বিষয়ে তার সতর্ক থাকা উচিত।

এদিকে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও থম টিলিস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান দেওয়া, ইউক্রেনের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যাহত করা এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা।

তাদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে এবং প্রাণহানি বাড়াবে।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন, ইরান, ডিজেল সরবরাহ ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে চলমান আলোচনা ভেস্তে দিতে চান না তিনি। এর আগে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিষয়:ইউক্রেন যুদ্ধ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…