মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানায়।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালিব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণের সময় প্রতিবাদে চিৎকার করলে ট্রাম্প বলেন, তাদের “যেখান থেকে এসেছেন সেখানে” ফেরত পাঠানো উচিত।
মঙ্গলবার প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে ট্রাম্প তার প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযান এবং ফেডারেল সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি “অভয়ারণ্য শহর” বন্ধ করার আহ্বান জানান—যেসব শহর ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা করে।
এ সময় ওমর ও তালিব চিৎকার করে বলেন, আপনারা আমেরিকানদের হত্যা করেছেন! পরে ওমর সামাজিকমাধ্যমে লেখেন, তিনি তার বক্তব্যে অটল আছেন এবং দাবি করেন, তার নির্বাচনী এলাকার দুই ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য প্রশাসন দায়ী।
পরদিন ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই মুসলিম আইনপ্রণেতাকে ‘কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, তারা দেশের উপকারে আসতে পারেন না, বরং ক্ষতিই করতে পারেন।
ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন, যার অন্তর্ভুক্ত শহর মিনিয়াপোলিস। অন্যদিকে তালিব মার্কিন কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী সদস্য। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে লেখেন, দুই মুসলিম নারী তাকে পাল্টা কথা বলায় তিনি ভেঙে পড়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তবে ট্রাম্পপন্থীরা বলছেন, ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানানো শিষ্টাচারবিরোধী ছিল।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন এবং অভিবাসন ইস্যুকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।








