নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, এসব হামলা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং এর লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইসলামিক স্টেটকে ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা মূলত নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকাকালে উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে কখনও বিকশিত হতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই হামলার বিষয়ে জানান, নাইজেরিয়ান সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি বড়দিনের শুভেচ্ছাও জানান।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার বিবিসিকে বলেন, এটি ছিল একটি যৌথ অভিযান। ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি তিনি। তুগ্গারের ভাষায়, বিষয়টি দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সে সময় কোন নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড বা ঘটনার কথা বলা হচ্ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ডানপন্থি মহলে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, মুসলমানদের তুলনায় খ্রিস্টানরা বেশি হত্যার শিকার হচ্ছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। দেশটিতে মুসলমান ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোটামুটি সমান।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর এক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল বোয়ালা বিবিসিকে বলেন, জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ যৌথভাবেই হওয়া উচিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে স্বাগত জানালেও নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। বোয়ালার মতে, জঙ্গিরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের নয়, বরং সব ধর্মের মানুষ এবং ধর্মহীনদেরও লক্ষ্যবস্তু করছে।
এর আগে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর ওপর ‘অস্তিত্বগত হুমকি’র কথা উল্লেখ করে নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই ঘোষণার আওতায় ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট তিনুবু জানান, সব ধর্মের নাগরিকদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।








