ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মেক্সিকোর ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পহেলা অগাস্ট থেকেই কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (১৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিবিসিবাংলা এই তথ্য প্রকাশ করে।
ইইউ পহেলা অগাস্টের আগেই ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছিলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই বাণিজ্য অংশীদার যদি পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে তাদের ওপর আরও উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও ব্রাজিলের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, “বাণিজ্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনায় অনেক বছর কেটে গেছে। আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, আমাদের অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য বাধার কারণে তৈরি হওয়া বাণিজ্য ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
ট্রাম্প ইইউ ও মেক্সিকোকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দেশ দুটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমদানি শুল্ক আরোপ করে তাহলে তিনি তাদের ওপর এই ৩০ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবেন।
ভন ডের লেয়েন এ বিষয়ে বলেছেন, “পহেলা অগাস্টের মধ্যে একটি সমঝোতার জন্য কাজ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তুত আছে। আমরা ইইউর স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজনে হলে আনুপাতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হবে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্র বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে তার শক্ত দ্বিমত রয়েছে। কোন সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গ্রহণযোগ্য পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেবেন।
ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি একটি ন্যায্য সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “আটলান্টিকের দুই পাশের মধ্যে একটি বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনার কোনো যুক্তি নেই।”
ডাচ প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, “ইইউকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তি করা হয়, যা থেকে উভয়পক্ষ সমানভাবে লাভবান হতে পারে।”
জার্মানির অ্যাসোসিয়েশন অফ দা অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, জার্মানের গাড়ী নির্মাণ ও সরবরাহে খরচ বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে মেক্সিকোকে দেয়া চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, “উত্তর আমেরিকার মাদক-পাচারের খেলা মাঠে পরিণত হওয়া বন্ধ করতে দেশটি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেক্সিকো আমাকে সহায়তা করছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।”
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে পারি কী পারিনা সেটিও আমরা পরিষ্কার। এখানে কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে কখনো আলোচনা হতে পারে না। আর সেটি হলো আমাদের সার্বভৌমত্ব।”
শনিবার মেক্সিকোর অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে ‘অন্যায্য পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে, ট্রাম্পের চিঠিতে ২০২০ সালে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার চুক্তির আওতায় থাকা মেক্সিকোর পণ্য পহেলা অগাস্ট থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে কিনা তা স্পষ্ট হয়নি।
চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউজ কানাডাকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছিলো।
হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা ৯০ দিনে ৯০টি চুক্তির লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সাথে চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা এসেছে বলে জানা যায়।








