এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইকে ঘিরে চলমান পরিবেশগত আইনি বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এক্সএআইয়ের ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আজ (১৭ জুন) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ টেনেসির মেমফিসে নির্মাণাধীন এক্সএআইয়ের ‘কলসাস-২’ ডাটা সেন্টারকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলা খারিজের আবেদন জানায়। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইনগুলোর বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে।
আফ্রিকান-আমেরিকানদের অন্যতম বৃহৎ নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি গত এপ্রিল মাসে ১৯৬৩ সালের ক্লিন এয়ার অ্যাক্টের আওতায় মামলাটি দায়ের করে। সংগঠনটির অভিযোগ, মিসিসিপির সীমান্তবর্তী সাউথহ্যাভেন এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই এক্সএআই কয়েক ডজন গ্যাস টারবাইন স্থাপন ও পরিচালনা করেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিকর বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলের শত সহস্র মানুষ সম্ভাব্য দূষণের কারণে হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের বাড়তি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া এলাকাটিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য, এই মামলা কার্যত এমন একটি প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়ক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিচার বিভাগের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডাম গুস্তাফসন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিবেশ আইনকে অপব্যবহার করা হলে সরকার তা মেনে নেবে না। অন্যদিকে, এনএএসিপির পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী পরিবেশবাদী আইন সংস্থা আর্থজাস্টিস ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক লরা থমস অভিযোগ করেন, প্রশাসন ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য পরিবেশগত দায় থেকে রক্ষা করতে আইনি প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপ করছে।
পরিবেশ আইন বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক অ্যান কার্লসনের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ক্লিন এয়ার অ্যাক্টের নাগরিক প্রয়োগব্যবস্থাকে দুর্বল করার একটি নজিরবিহীন প্রচেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেতে পারে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইলন মাস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মসূচিতে এক্সএআই-এর তৈরি ‘গ্রক’ মডেল ব্যবহৃত হচ্ছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আদালতে দেওয়া নথিতে দাবি করেছেন, গ্রকের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে সামরিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ-সহায়ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।







