যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর এক নির্বাহী আদেশে জাপানি গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর ঘোষিত শুল্ক কমিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি জাপানের রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত জুলাইয়ে ঘোষিত এ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল ট্রাম্পের এই আদেশের মাধ্যমে। দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনা শেষে দুই মিত্র দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা জাপানের অটোমোবাইল খাতে অনিশ্চয়তা কমাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে।
গাড়ির শুল্ক কমছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ
নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, জাপানি গাড়ির ওপর শুল্ক ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই হার আদেশের সরকারি প্রকাশনার ৭দিনের মাথায় কার্যকর হবে।
এছাড়া, ১৫ শতাংশ শুল্ক যেসব পণ্যে আগে থেকেই ছিল, সেখানে দ্বিগুণ শুল্ক না বসিয়ে সামঞ্জস্য করা হবে। আগে যেসব পণ্যে ১৫ শতাংশ এর নিচে শুল্ক ছিল, তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে যা ৭ আগস্ট থেকে প্রযোজ্য হবে। তবে বাণিজ্যিক বিমান ও যন্ত্রাংশে কোনো শুল্ক বসবে না বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের আগের শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত টয়োটা, এবার স্বস্তির আশ্বাস
ট্রাম্পের আগের বাণিজ্য নীতির কারণে জাপানের রপ্তানি খাতে ধস নামে। টয়োটা গত মাসে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা গাড়িতে ট্রাম্পের শুল্কের কারণে তাদের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
টয়োটা বলেছে, আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ গাড়ি উত্তর আমেরিকায় তৈরি হলেও এই নতুন কাঠামো আমাদের জন্য স্বচ্ছতা আনবে।
জাপান-যুক্তরাষ্ট্র: কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে বাড়ছে সহযোগিতা
চুক্তির আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৮ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, ভুট্টা, সয়াবিন, সার ও বায়োইথানল (টেকসই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত)।
এছাড়া, জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০০টি বোয়িং বিমান কিনবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়িয়ে বছরে ১৭ বিলিয়ন ডলার করবে, যা আগে ছিল ১৪ বিলিয়ন।
৫৫০ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে
এই চুক্তির অংশ হিসেবে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্বাচিত বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হবে। বিনিয়োগের এই অর্থ সরকারি মালিকানাধীন জাপানি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ইকুইটি, ঋণ ও গ্যারান্টির মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকও বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। দৃষ্টিতে দক্ষিণ কোরিয়া, অপেক্ষায় সমান সুবিধা
দক্ষিণ কোরিয়া এখনো এমনই একটি বাণিজ্য চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে হুন্ডাই ও কিয়া মোটরসের মতো নির্মাতাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার আলোচনা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক বাণিজ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তির প্রভাব পর্যালোচনা করছেন।
জাপানি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে চুক্তি?
চুক্তিটি এমন সময় এলো যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা নিজের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করতে লড়াই করছেন। সোমবার তার দলের মধ্যে একটি বিশেষ নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং মনে করছেন, চুক্তিটি ইশিবার পক্ষে গেলেও, তিনি দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামাল দিতে পারবেন না। তার মতে, ইশিবার পদচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ।








