ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক নাম বাদ পড়া বড় একটি প্রভাবক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা দেয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ (SIR) কার্যক্রমের মাধ্যমে মৃত ও ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
তৃণমূল শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, এই প্রক্রিয়া পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাদের ভোটব্যাংককে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সেই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব আসনে ভোটার বাদ পড়ার সংখ্যা বেশি, সেসব আসনে বিজেপির জয়ের হারও বেশি।
২৫ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়া ১৪৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৯৫টি, তৃণমূল পেয়েছে ৫১টি, কংগ্রেস পেয়েছে ১টি।
১৫ থেকে ২৫ হাজার ভোটার বাদ পড়া ৬৭টি আসনে বিজেপি ৪৭, তৃণমূল ১৯, কংগ্রেস ১ টি। ৫ থেকে ১৫ হাজার ভোটার বাদ পড়া ৬২টি আসনে-বিজেপি ৫০ তৃণমূল ১২ টি। ৫ হাজারের কম ভোটার বাদ পড়া ১৩টি আসনের সবকটিই জিতেছে বিজেপি।
জেলাভিত্তিক পরিবর্তন
সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়, প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়েছে এ জেলায়। এই জেলায় ২০২১ সালে ২২টির মধ্যে ২০টি আসন জিতেছিল তৃণমূল, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৯টিতে।
উত্তর ২৪ পরগনায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২১ সালে ৩৩টির মধ্যে ২৮টি আসন জিতলেও এবার তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮টি। মালদা জেলায় তৃণমূলের আসন কমে ৮ থেকে ৬-এ নেমে এসেছে, বাকি আসনগুলো পেয়েছে বিজেপি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন এবং হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া পরিচালিত ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়।
তথ্য অনুযায়ী, ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ। খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে ৫৮ লাখ ২০ হাজার নাম। চূড়ান্ত তালিকায় এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লাখ ৬৬ হাজারে। বিচারিক যাচাই শেষে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জন
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক হারে নাম বাদ পড়া পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়েছে, যা দলটির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


