কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনায় পর্যটকবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় বাল্কহেড সুকানি ও ইঞ্জিন মিস্ত্রিসহ ৬ অজ্ঞাতনামে ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৩ মার্চ) রাতে নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানার পিতা আব্দুল আলিম বাদি হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাহিদ আহমেদ মামলা দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ কনস্টেবল সোহেল রানার বাবা আব্দুল আলিম গতরাতে একটি এজহার দায়ে করেন। এতে বাল্কহেড সুকানি ও ইঞ্জিন মিস্ত্রিসহ ৬ অজ্ঞাতনামে ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এ মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি কিশোরগঞ্জ নৌ পুলিশ অঞ্চল তদন্ত করবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
মামলার বাদি নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানার পিতা আব্দুল আলিম বলেন, এ ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়। আমি মনে করি এটি হত্যাকাণ্ড। এই একটি ঘটনায় আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি দোষীদের বিচার চাই। সেই কারণেই আমি মামলা করেছি।
ভৈরব নৌ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, গতকাল দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি নিখোঁজ কনস্টেবল সোহেল রানার স্ত্রী মৌসুমী বেগমের (২৬) ও অপরটি ভৈরবের টুটুন দের মেয়ে আরাধ্য দে (১১)। আজ সকালে থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদীর ভৈরব এলাকায় পাশাপাশি দুটি রেল ও একটি সড়কসেতু আছে। তিনটি সেতু ঘিরে ভৈরব প্রান্তে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে ঘুরে বেড়ান। গত শুক্রবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে একটি নৌকায় ১৫ থেকে ১৮ জন ঘুরতে যান। মাঝনদীতে বালুবাহী বাল্কহেড নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজরা রয়েছেন- পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা (৩৪), তার মেয়ে মাহমুদা সুলতানা (৭), ছেলে রাইসুল (৫), ভৈরব পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার ঝন্টু দে’র স্ত্রী রুপা দে (৩০), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী গ্রামের বেলন দে (৪৫) ও নরসিংদির বেলাব থানার দড়িকান্দি গ্রামের দারু মিয়ার মেয়ে শিক্ষার্থী আনিকা আক্তার (১৮)।







