এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জার্মানিতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক নথিতে সহজে লিঙ্গ পরিবর্তন এবং নাম বদলানোর এক নতুন আইন চালু হবে। ট্রান্সজেন্ডার, ইন্টারসেক্স এবং ননবাইনারি মানুষরা এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে রক্ষণশীলরা এটির বিরোধিতা করেছেন।
জার্মানির নতুন ‘সেল্ফ-ডিটারমিনেশন অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে শুক্রবার থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সিরা আনুষ্ঠানিক নথিতে থাকা নিজেদের নাম, লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তন বা জেন্ডার মার্কার তুলেও দিতে পারবেন।
এই পরিবর্তনের আবেদন করা এবং তা ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণার মধ্যে তিনমাস অপেক্ষার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এই আইন চালুর শুরুর দিকে এধরনের পরিবর্তনের আগে দুইটি মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন এবং আদালতে শুনানির যে নিয়মের কথা বলা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে।
১৪ বছরের বেশি বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্করাও এই পরিবর্তন করতে পারবে তবে সেজন্য তাদের অভিভাবকের অনুমতি বা আইনি সহায়তা নিতে হবে৷ অভিভাবকরা শিশুদের পক্ষে পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন তবে শিশুদেরও সরকারি নিবন্ধন দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে এবং তাদের সম্মতি দিতে হবে। এই আইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা যাবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই।
জার্মান ট্রান্স অ্যাসোসিয়েশন (বিভিটি)-এর নীতি বিষয়ক কর্মকর্তা ক্যালে হ্যুম্ফনার নতুন এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন যে নিজের লিঙ্গ নিজেই সনাক্তের ব্যাপারটি এখন আরও সহজে এবং কম খরচে করা যাবে।
হ্যুম্ফনার আরও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন৷ তাহচ্ছে নতুন আইনি প্রক্রিয়ার কারণে যারা নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনে আগ্রহী তাদের আগের মতো বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না।
তিনি বলেন, আগের যাচাই প্রক্রিয়ায় অনেক একান্ত ব্যক্তিগত তথ্যও ফাঁস করতে হতো আগ্রহী ব্যক্তিদের – এমন তথ্য যা আদালতকে জানাতে হতো৷ অনেক আতঙ্কজনক প্রতিবেদন রয়েছে যেখানে আগ্রহীরা জানিয়েছেন যে তাদেরকে নিজেদের যৌন পছন্দ, হস্তমৈথুন চর্চা এবং অন্তর্বাস বাছাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
জার্মান সংবাদসংস্থা ডিপিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির রাজধানী বার্লিনের বর্ধনশীল এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের ১২০০-র মতো মানুষ এখন অবধি আনুষ্ঠানিক নথিতে লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন৷ ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা কেএনএ জানিয়েছে যে অন্যান্য শহরেও একইরকম আগ্রহ রয়েছে।
জার্মান সাংসদ এবং ট্রান্সজেন্ডার নারী ন্যুকে স্লাভিক সবুজ দলের পক্ষে আইনটি বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এই আইনের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে এটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে।
স্লাভিক বলেন, ডানপন্থি পপুলিস্ট কন্ঠগুলো যখন আবারও চড়া হচ্ছে তখন এই আইনের বাস্তবায়ন এক আশার প্রতীক। এবং এটা এমন এক সময় যখন অনেক দেশ ক্যুয়ার মানুষদের অধিকার ইস্যুতে পেছনের দিকে হাঁটায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জার্মানির জোট সরকার নতুন এই আইনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করার পর সেটি বিরোধী দল রক্ষণশীল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী (সিডিইউ) এবং এটির বাভারিয়া অংশ খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন (সিএসইউর) বিরোধিতার মুখে পড়ে৷ উগ্রডানপন্থি পপুলিস্ট দল এএএফডিও খসড়াটির বিরোধিতা করে।
সংসদে ব্যাপক বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে ২০২৪ সালের এপ্রিলে আইনটি অনুমোদন করা হয়।
সূত্র: ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)।








