এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নতুন অর্থবছরের বাজেটে দেশের প্রবীন বা জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের (সিনিয়র সিটিজেন) জন্য এক অবিশ্বাস্য মানবিক ঘোষণা দিয়েছে নতুন সরকার। এখন থেকে দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ট্রেনে যাতায়াতের জন্য কোনো ভাড়া দিতে হবে না। একই সঙ্গে ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেলের ভাড়ায়ও তারা পাবেন বিশেষ ছাড়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থানের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকেরা ট্রেনে বিনা মূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং তাদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও আরও স্বস্তিকর হবে।
এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত বা নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করার এবং মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতার আওতাও বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করা হবে এবং শিক্ষার স্তরভেদে মাসিক ভাতা এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি অপরিবর্তিত রেখে ২০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে ৪০ হাজার, বীর উত্তমকে ৩০ হাজার এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।







