আগামী তিন থেকে চার দিন রাজধানীতে যানজট বৃদ্ধি পাবার শঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি যেন কমাতে পারে সে ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।
আজ শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম মেহেদী হাসান এসব কথা বলেন।
ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আপনারা জানেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এই সপ্তাহে তিনটি পরীক্ষা আছে, আগামীকাল রোববার একটি, ১৬ তারিখে একটি এবং ১৭ তারিখে আরেকটি। পাশাপাশি আগামীকাল সপ্তাহের প্রথম কর্ম দিবস। প্রথম কর্ম দিবসে মানুষের সড়কে চলাচল বৃদ্ধি পায়, এটিও আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও ১৫ তারিখ সোমবার উল্টো রথযাত্রা আছে। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাস্তায় বের হবেন। সারা ঢাকা শহরে তাদের গমনাগমন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ১৭ তারিখে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আশুরা আছে। তাজিয়া মিছিল আছে। এই সময়টাতে যানজট বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনও চলছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের আগামী সপ্তাহে যে চ্যালেঞ্জগুলো এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে প্রত্যেকটি বিভাগের উপকমিশনার তাদের মতন করে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি যেন কমাতে পারে সে ব্যাপারে সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।’
শাহবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোটা আন্দোলনের নামে জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। আপনারা সবসময় বলেন কেউ জনভোগান্তি করলে আইন প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগ না করে জনভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান বলেন: ‘এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা এই ৮টি ডিভিশনের ভেতরে সমন্বয় সাধন করে। পাশাপাশি ক্রাইম বিভাগের সাথে টিম ডিএমপি আমরা একযোগে কাজ করি। আমরা সবসময় চেষ্টা করি সাধারণ মানুষের গমনাগমনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি যত কমানো যায়। আপনারা লক্ষ্য করেছেন গতকাল সারা ঢাকা শহরে যানজট হয়েছিল শুধুমাত্র বৃষ্টির কারণে। এই ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা যে ধরনের চ্যালেঞ্জ ফেস করি এই যে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এটিও কিন্তু আমাদের জন্য আরেকটি চ্যলেঞ্জ। আমরা সামগ্রিকভাবে ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্য রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারি।’
ফুটপাত দখলে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। প্রায় সময় পুলিশ ফুটপাত উচ্ছেদ করেও ফুটপাত দখল মুক্ত করতে পারছে। এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ কি ভাবছে! এমন প্রশ্নে ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার বলেন: অধিকাংশ জায়গায় আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করেছি। উচ্ছেদের পরও কিছু কিছু জায়গায় আবারও ফুটপাত দখল করে জন-দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। সেসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফুটপাত শুধু পথচারী জনসাধারণের চলাচল বা হাঁটার জন্য, অন্য কিছুর জন্য নয়। আমরা যখনই খবর পাচ্ছি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
মতিঝিলে সিটি করপোরেশন সড়ক ভাড়া দিয়েছে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন: এটা তো সিটি করপোরেশন করেই থাকে। যেসব সড়ক কম ব্যবহৃত হয় সেসব পার্কিংয়ের জন্য অফিস সময়ে ভাড়া দেয়।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, নিউ মার্কেটে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা হয়েছিল পার্কিং ও হকার বিষয়ে। পরে আমরা পুরো এলাকা হকার ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত করেছি। যাত্রাবাড়ী ও বেইলি রোড আমরা হকার ও অবৈধ দখলমুক্ত করেছি।








