বড়দিনসহ টানা ৩ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের কারণে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হোটেল মোটেল আগে থেকে বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেকেই রুম না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে।
সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আশপাশের এলাকায় পর্যটকে ঠাসা। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটক হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের সরকারি ছুটি, তার সাথে যোগ হয়েছে শুক্রবার শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে তিন দিনের টানা ছুটির কবলে পড়েছে দেশ। সে সাথে ডিসেম্বর মাস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ, আর এই সুযোগেই পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে সবাই ছুটে আসছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর কক্সবাজার। যেখানে রয়েছে সৈকত আর পাহাড়ের মিলন।
এদিন সকাল থেকে সড়কপথে, রেল পথে ও আকাশ পথে কক্সবাজারে আসতে থাকেন পর্যটকরা। দুপুরের আগে সৈকতের সবগুলো স্পট পর্যটকে ভরপুর হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমনের কারণে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কসহ কক্সবাজারের সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ রামু ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, পর্যটকবাহী একের পর এক যানবাহন আসার কারণে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কসহ শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যানজট লেগে আছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যানজটের ভোগান্তিতে যেন পর্যটকদের পড়তে না হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি, রামু, দরিয়া নগর ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা।
কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী সুবাস চন্দ্র, রামমোহন ও মৌমিতা জানান, ব্যবসার কারণে তারা এতদিন কক্সবাজার আসতে পারে নাই। এখন বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ; সেই কারণে একসাথে তিন পরিবার মিলে কক্সবাজার এসেছেন তিন দিনের জন্য। সৈকতে এসে তাদের অনেক ভালো লাগার কথা জানান।
রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আসা দুই বন্ধু মফিজুল ইসলাম ও মাহবুব হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে কক্সবাজার এসেছি, সৈকতে নামার পর সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। সাগরের ঢেউ আর নীল জলরাশি দেখে মনে প্রচণ্ড শান্তি পেলাম।
কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আসা মহুয়া খন্দকার বলেন, বাচ্চার পরীক্ষা শেষ, তাই পরিবার নিয়ে কক্সবাজার। তবে এবারে হোটেল পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তারপরেও কোনরকম পেয়েছি। সৈকত আসার পর সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা শহীদুল ইসলাম, মাহবুব রোকন ও বাবু দাস বলেন, অনেক চেষ্টা করে কোন রুম পেলাম না। সকাল থেকে এসে ব্যাগ নিয়ে বাইরে ঘুরছি। পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছি। এখানে যে রুম বুকিং দিয়ে আসতে হবে সেটা আমাদের জানা ছিল না। তারা বলেন, চেষ্টা করে যাচ্ছি। রুম না পেলে রাতটা কোথায় কাটাবো তাও জানি না।

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের জিএম ইয়াকুব আলী বলেন, অনেক আগে থেকে আমাদের সবগুলা রুম বুকিং হয়ে গেছে। তারপরেও অনেক পর্যটক এসেছিল রুমের জন্য। আমরা কোনভাবে রুম দিতে পারিনি। তবে আমরা পর্যটকদের নানাভাবে সেবা দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
হোটেল কক্স টুডের জিএম আবু তালেব শাহ বলেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের হোটেল বুকিং রয়েছে। বিপুল সাড়া পেয়েছি আমরা পর্যটকদের। অনেককে রুম দিতে পারছি না।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আমাদের হোটেল মালিকরা এবার অনেক ভালো ব্যবসা করতেছে। জানুয়ারি পর্যন্ত ভালো বুকিং আছে সবার। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, ফলে সে কারণে ব্যবসা কেমন হয় বুঝা যাচ্ছে না।
সিসিএফ লাইফগাড কর্মী ওসমান গনি বলেন, সৈকতের তিনটি পয়েন্টে আমরা পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে পানিতে নামার পর পর্যটকরা আমাদের কথা শুনতে চায় না। এতে করে অনেক সময় দুর্ঘটনায়ও পড়তে হয় তাদের।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বড়দিন সেই সাথে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। এসব পর্যটকরা যাতে কোনভাবেই হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তিনটি টিম সৈকত ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, তিন দিনের টানা ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসার কারণে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি কুইক রেস্পন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যটকদের ছিনতাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখছে টুরিস্ট পুলিশ। সব মিলিয়ে কক্সবাজার সৈকতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।







