একুশে পদক ২০২৬-এ অভিনেত্রী ববিতার সম্মাননা প্রাপ্তি ও তা শহীদ বুদ্ধিজীবী চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান-কে উৎসর্গ করার ঘটনায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তপু রায়হান। তিনি ববিতার বড় বোন কোহিনুর আক্তার সুচন্দা ও জহির রায়হান দম্পতির সন্তান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে খালা ববিতার এই অর্জনকে তিনি ‘প্রাপ্য সম্মান’ বলে উল্লেখ করেন।
তপু রায়হান জানান, ছোটবেলা থেকেই খালা ববিতাকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, “ববিতা সারাজীবন যে কাজে হাত দিয়েছেন, সে কাজে সোনা ফলেছে। এই পদক তার প্রাপ্য।”
খালার অর্জনে গর্ব প্রকাশের পাশাপাশি ববিতার পদক বাবা জহির রায়হানকে উৎসর্গের সিদ্ধান্তে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তপু রায়হান তার পোস্টে বলেন, পদক গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁর মনে হচ্ছিল, “বাবা এখানেই আছেন। যারা পুরস্কারে অভিষিক্ত হলেন, তাদের উদ্দেশ্যে যখন করতালি বাজছিল—সেখানে বাবাও ছিলেন।”
গেল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) একুশে পদক গ্রহণের পর ববিতা এই সম্মাননা উৎসর্গ করেন তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের পথপ্রদর্শক জহির রায়হান-কে। এসময় তিনি জহির রায়হানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রের জগতে এনেছেন, তিনি না আনলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না। তাই আমার একুশে পদক জহির রায়হানকে উৎসর্গ করছি।”
খালা ববিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তপু আরো লেখেন,“ববিতা খালাকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তার জন্য আমি এই অনন্য অনুভূতির অভিজ্ঞতা পেয়েছি।”
রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন ববিতা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে তপু রায়হানের লেখায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প–সাহিত্যচর্চাকে রাজনীতিকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অবশ্যই কাজ করবে।”
এই বক্তব্যকে ‘জরুরি’ উল্লেখ করে তপু রায়হান আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চাকে রাজনীতিকরণমুক্ত রাখতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোও এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। তাঁর বিশ্বাস, তবেই সমাজে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে, সংস্কৃতিবান সমাজ গড়ে উঠবে এবং জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।








