ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
৬৯–এর গণ–অভ্যুত্থানের নেতা, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। পরিবার জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। বরিশালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাসসহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।
স্বাধীন বাংলাদেশে ৯বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি পুনরায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রায় তিন বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোক হয় তার। এর পর আস্তে আস্তে তাঁর স্মৃতিশক্তি কমে আসে। সম্প্রতি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।








