চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

তামাক চাষে জড়িতদের বিকল্প চাষে উৎসাহিত করার তাগিদ

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আখতার হোসেন বলেছেন, ‘দেশে যারা তামাক চাষের সাথে জড়িত তাদেরকে বিকল্প অন্যান্য ফসল উৎপাদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। এখন অনেক অর্থকরী ফসল আছে যেগুলো চাষ করলে কৃষকেরা অধিক লাভবান হবে। এ বিষয়ে ভালো ক্যাম্পেইন-এর প্রয়োজন রয়েছে। তামাক চাষ কমিয়ে আনতে এই ধরনের প্রচারণা তামাক চাষীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার ৩ আগস্ট সকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বেসরকারি সংগঠন উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত ‘এসডিজি বাস্তবায়নে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমরেটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

সেমিনারের শুরুতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তামাক আইন আর শক্তিশালীকরণ বিষয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সেমিনারের শুরুতে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমরেটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রদত্ত নানান সুবিধার কারণে তামাকের ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে আনার বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত ও সুরক্ষায় আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

Reneta April 2023

ড. আতিউর আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বরাবরই বৃহত্তর জনস্বার্থের প্রতি সংবেদনশীল থেকে সামষ্টিক অর্থনীতিকে পরিচালনা করেন। সে অনুসারে নীতি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বর্তমান সরকার। তামাকের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতেই ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন প্রথমবার সংশোধন করা হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ২০৪০-এর মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দেন তখনই তামাক পণ্যে যথাযথ করারোপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনটি শক্তিশালীকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’র অধিকতর সংশোধনীর খসড়াটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেন ১৫৫ জন মাননীয় সংসদ সদস্যসহ ২০ হাজারের বেশি নাগরিক ও সংগঠন। এখন এই আইনটি যত দ্রুত সংশোধন করে শক্তিশালী করা যায় ততোই মঙ্গল।

অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘দেশ থেকে দারিদ্রতা দূর করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সক্ষম এবং কর্মদক্ষতা সম্পন্ন যুবসমাজ। কর্মদক্ষ যুবসমাজ তৈরি করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই ধূমপান থেকে দূরে রাখতে হবে। ধূমপায়ীদের কেউই সমর্থন করে না। ধূমপান কমিয়ে আনতে নীতিগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে।’

অতিরিক্ত সচিব (এসডিজি বিষয়ক) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে অনেক ধরনের অগ্রগতি ঘটলেও ওটিটি প্লাটফর্মের নাটকগুলোতে আমরা দেখছি সিগারেট এর ব্যবহার বড় বেশি বেড়ে গেছে। এ বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। কোনকিছুতেই যাতে করে ধূমপান উৎসাহিত না হয় সেই তদারকি বাড়াতে হবে।

বিআইডিএস-এর সিনিয়র ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, ‘তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে জনসেচতনতা বৃদ্ধি ও জনমত তৈরির পাশাপাশি তামাকের ওপর আরও ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এর একটা ফলাফল আছে। একই সাথে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করে অগ্রসর পর্যায়ে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সিটিএফকে-এর লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কে, কোথায়, কীভাবে, ধূমপান করবে, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু কোনভাবেই জনস্বাস্থ্য যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। সরকার কঠোর না হলে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েবে।

এ ছাড়াও মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন বাপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর, রিবের পারিচালক সুরাইয়া বেগম, বিলিয়ার গবেষণা সহকারি তাসমিয়া আলীসহ অন্যরা।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের হেড অফ প্রোগ্রামস শাহীন উল আলম।