রাজধানীর মিরপুর রোডে ফেটে যাওয়া একটি ভালভ পরিবর্তন করে নতুন ভালভ বসানোর পর ওই এলাকার পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। তবে গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ধীরে ধীরে লাইনে চাপ বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে।
এর আগে সকালে তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে চার ইঞ্চি ব্যাসের একটি ভালভ ফেটে ছিদ্র তৈরি হয়। মেরামতের জন্য একাধিক ভালভ বন্ধ রাখতে হওয়ায় বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দেয়।
তিতাস সূত্র জানায়, ভালভের মাধ্যমে পাইপলাইনে গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রয়োজনে চাপ বাড়ানো বা কমানোর জন্য বিতরণ লাইনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট স্থানে এসব ভালভ স্থাপন করা থাকে।
এদিকে রাজধানীতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকট চলছে। এর মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি আমিনবাজার এলাকায় পাইপলাইনে ছিদ্র হওয়ার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে কম চাপে গ্যাস পাচ্ছেন বাসিন্দারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই মিরপুর রোডে নতুন দুর্ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হলেও ভেতরে জমে থাকা পানি পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে নতুন দুর্ঘটনায় সরবরাহ আরও কমে যায়।
রাজধানীতে রান্নার জ্বালানির প্রধান দুটি উৎস হলো তিতাসের সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা এলপিজি সিলিন্ডার। বর্তমানে দুই ক্ষেত্রেই সংকট চলছে। আমদানি কম হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ হ্রাস পায়। অনেক জায়গায় দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার, যার সরকারি দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা, সেটি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজির সংকটে অনেক এলাকায় মানুষ রান্না করতে পারছেন না। যাঁরা সামর্থ্যবান, তাঁরা বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা রাইসকুকার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ ভাত রান্না করে তরকারি রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনছেন। তবে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের পক্ষে ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি বা যন্ত্রপাতি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।








