বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী ভিসা প্রার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয়েছে এমন বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধীরা পরীক্ষার আগেই প্রার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্রের কপি তুলে দেয়, যার ফলে তারা উত্তর মুখস্থ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। বাংলাদেশে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে ইতোমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চীন ও ভিয়েতনামেও একই ধরনের প্রশ্নফাঁস ও কেনাবেচার প্রমাণ মিলেছে। ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে এক নোটিশের মাধ্যমে ভিয়েতনামের ব্রিটিশ কাউন্সিলে এ বছরের শুরুতে একটি নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে ব্যাকআপ সংস্করণ নিতে বাধ্য হয়।
এটির পাশাপাশি আরও একটি বড় সমস্যা সামনে এনেছে দ্য টেলিগ্রাফ। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রায় এক শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭৮ হাজার ফলাফল, একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি”র কারণে ভুলভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ভুলের কারণে অনেকেই যোগ্যতা পূরণ না করেও যুক্তরাজ্যে কাজ বা পড়াশোনার ভিসা পেয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ৯৯ শতাংশ ফলাফল সঠিক হলেও, ত্রুটিপূর্ণ ফল পাওয়া সকল প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করে সংশোধন ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুল ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সেক্টরে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা জনসেবার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। একটি করোনার তদন্তে দেখা গেছে, এক কেয়ার ওয়ার্কার যিনি কখনও ইংরেজি পরীক্ষা দেননি, জরুরি ফোন কলে “ব্রিথিং” (শ্বাস) আর “ব্লিডিং” (রক্তপাত) শব্দ দুটির মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিলেন, যা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।
শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিল্ফ বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও ভিসা পেয়েছেন, তাদের অবশ্যই অপসারণ করতে হবে। তিনি এটিকে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে “বিপর্যয়কর ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট এবং আইডিপি যৌথভাবে পরিচালিত আইইএলটিএস বছরে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন পরীক্ষা নেয়। মার্কিং ত্রুটির কারণে ব্যাপক ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় আর্থিক চাপে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল আরও সঙ্কটে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এক বিবৃতিতে আইইএলটিএস জানায় মার্কিং ত্রুটি সমাধান, পুনরায় ফল প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


