পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল ছাড়তে চাইলে নেতাকর্মীদের চলে যেতে দিতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। একইসঙ্গে দলীয় সংগঠন নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পরও দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মমতা।
তিনি বলেন, যারা অন্য দলে যেতে চায়, যেতে দিন। আমি নতুন করে দল গড়ে তুলব। যারা থাকছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয়গুলো মেরামত করুন, রং করুন এবং আবার চালু করুন। প্রয়োজন হলে আমিও রং করব। তৃণমূল কংগ্রেস কখনো মাথা নত করবে না। জনগণের রায় ছিনতাই করা হয়েছে।
নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী দলে পরিণত হওয়ার কয়েকদিন পরই এমন মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে মাত্র ৮০টিতে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেও পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বাকি তিনটি আসন তাদের মিত্র ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা-এর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অনিত থাপা। ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হয়েছেন মাত্র ৮০ জন, আর পরাজিত হয়েছেন ২১১ জন। পরাজিতদের মধ্যে দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীও রয়েছেন।
নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য দলত্যাগ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কালীঘাটের এই বৈঠক ডাকা হয়।
ফল ঘোষণার একদিন পর ৫ মে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন মমতা। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি জানি অনেকে অন্য দলে চলে যাবে। তাদের নিজস্ব কারণ থাকতে পারে। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। যে যেতে চায়, সে যেতে পারে। কাউকে জোর করে ধরে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না।
এদিকে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রশংসা করা হয়।
দলটি জানায়, অমানবিক নির্যাতন ও লাগাতার ভয়ভীতির মধ্যেও তারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ। জনগণের রায় যারা লুট করেছে, তাদের সামনে আমরা কখনো মাথা নত করব না। সত্যের জয় হবেই।
এক্স পোস্টেও নির্বাচনের ফলাফল ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তৃণমূল।
দলীয় নেতাদের মতে, কঠিন সময়ের মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মনোবল বাড়ানো এবং সংগঠনের ঐক্যের বার্তা দিতেই এই বৈঠক ব্যবহার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।








