এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সারাদেশে বাউলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘বাউলের দ্রোহ’ শিরোনামে বিচার গানের আসরের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। তবে এই আয়োজন গভীর রাতে উচ্চ শব্দে চলার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে পাল্টা উচ্চ শব্দে হ্যান্ড মাইকে গান বাজাতে থাকেন একদল শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে বাউল গান বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যার দিকে “বাউলের দ্রোহ” নামে গানের পরিবেশনা শুরু করেন একদল প্রগতিশীল শিক্ষার্থী। পরে রাত ৯ টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে কয়েকজন শিক্ষার্থী গানের উচ্চশব্দে তাদের পড়াশোনা করতে সমস্যা হচ্ছে এমন পোস্ট করতে থাকেন। রাত ১ টার দিকে পরিবহন চত্বরে গান বন্ধ না হওয়ায় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ নামে একটি দল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে ছোট কয়েকটি হ্যান্ড সাউন্ডবক্স ও হ্যান্ড মাইকে গান চালাতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরিবহন চত্বরে চলা বাউলের দ্রোহ গানের মঞ্চে যান এবং আয়োজকদের গান বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় প্রক্টরের সাথে আয়োজকদের কথা-কাটাকাটিও হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরের নির্দেশে আয়োজকরা গান বন্ধ করে চলে যান।
এদিকে আয়োজকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা শুরু থেকেই শব্দ কমিয়ে অনুষ্ঠান চালাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর চাপে প্রশাসন গানের আসর বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই “সাধারণ শিক্ষার্থী” নামে যারা চাপ প্রয়োগ করেছে তারা শাখা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তাদের কয়েকজন অভিযোগ করেছেন।
জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি বলেন, “রাশিদুল আলম স্যার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম প্রক্টর, যিনি গান বন্ধ করতে মঞ্চে উঠে গেলেন। অভিযোগ, গানের শব্দে ঘুমাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যাবেলাতেই এই অভিযোগের ভিত্তিতে গানের সাউন্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। আমরা স্যারকে বললাম, স্যার চলেন। আপনার গাড়িতেই হলপাড়ায় যাই, দেখে আসি শব্দ পৌঁছাচ্ছে কি না। স্যার শুনলেন না। এই ক্যাম্পাসে গান চলেছে আজীবনই, আমরা সহাবস্থান করেছি, সহমর্মিতা রেখেছি পরস্পরের প্রতি। আমাদের এই সহাবস্থান আর সহমর্মিতাকে ধ্বংস করার পায়তারা আমরা রুখবোই!”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশব্দের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কারণ তাদের পরীক্ষা চলছে- যেহেতু এখন পরীক্ষার মৌসুম। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী গানের উচ্চশব্দে মাইগ্রেনের সমস্যার কথাও জানিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গানের আয়োজকদের গানের শব্দ কমাতে বলেছিলাম। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে তাদের অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য অনুরোধ করলে তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় চান এবং সে সময়ের পর আমার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অনুষ্ঠান শেষ করেছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে এবং স্ল্যাং শব্দ ব্যবহার করেছে। এছাড়া পরিবহন চত্বরে উচ্চ শব্দের গানের প্রতিবাদস্বরূপ একদল শিক্ষার্থী ভিসি স্যারের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন এবং তারাও কিছুটা উচ্চস্বরে কিছু অ্যাক্টিভিটিস করেছেন। সেগুলোও তাদের কাছে আমরা আশা করি না।”








