গুলিবিদ্ধ হওয়া ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এ আঘাত কেবল হাদির ওপরে নয়; এ আঘাত বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপরে। এ আঘাত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপরে, স্বাধীনতার ওপরে। এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ও ঢাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন: ১৭ বছর আন্দোলনের পর কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছি। হাদি আমার সন্তানতুল্য। হামলার খবর শুনে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পরেছি। আমি মনে করি, এ আঘাত হাদির ওপর নয়, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর। তাই কালো শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মির্জা আব্বাস প্রশ্ন রেখে বলেন, হামলার একঘণ্টা পর একটি পক্ষ ফেসবুকে লিখেছে— যে যেখানে আছো, বের হয়ে আসো। আমরা মনে করি, পরিকল্পিতভাবেই এ হামলা হয়েছে।
অপশক্তি ও কালো হাত ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন: গুলি লাগার পরেই এক গোষ্ঠি বাড়ি ভাঙতে আহ্বান জানিয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পরে এই অবস্থার আরও অবনতি হয়। সুযোগ পেয়ে কিছু বেয়াদব ছেলে-পেলে বেয়াদবি করে। এরা কেউ হাদির সমর্থক নয়, একটি বিশেষ দলের কর্মী-সমর্থক।
মুসলমান হিসেবে আমরা কখনও কারও মৃত্যু কামনা করতে পারি না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মুসলমান লেবাসধারী কিছু লোক এই কাজ করেছে, হাসপাতালে ঢুকেও মব করার চেষ্টা করেছে। তারা ভেবেছে তাদের ধমক দেখে আমরা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবো। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে।
জীবনে অনেক নির্বাচন করেছেন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, হাদি চাইলে আমি তাকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের প্রার্থীদের মারামারি করার কোনো রেকর্ড নাই। এই রেকর্ড আওয়ামী লীগ আর ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে’ যে দল তাদের আছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দ্রুত হাদির ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হোক। তাহলেই একটি দলের মুখোশ খুলে যাবে। হাদি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। সে আমার প্রতিযোগী। হাদি আমার শত্রু নয়, হাদি রাজপথের লড়াকু সৈনিক। ওর বয়সে আমরাও রাজপথে লড়াই করেছি।
এসময় সকলকে চোখ কান খোলা রেখে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি বলেন, আগে আমাদের একটি শত্রু ছিল কিন্তু এখন বহুমুখী শত্রু। তাদের প্রতিহত করতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দেশে যেন নির্বাচন না হতে পারে, তাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুই প্রার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। ভারতের বসে এ ধরনের হামলার ইন্দন দিচ্ছে একটি গোষ্ঠী। তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমান যেন দেশে না আসতে পারেন, সে ষড়যন্ত্র চলছে।
যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, তফসিলের পর এ ধরনের হামলা পরিকল্পিত। একটি পক্ষ মব সৃষ্টি করছে।
বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তাই গুপ্ত ও আওয়ামী সন্ত্রাস এক হয়ে গেছে। তবে দেশের মানুষ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেবো। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন হাদিকে দেখতে গিয়ে মির্জা আব্বাসের ওপর মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানান তিনি।








