থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
আজ মঙ্গলবার ইংরেজি নতুন বছর ২০২৫-এর নিরাপত্তা উপলক্ষে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।
তিনি জানান, ইংরেজি নতুন বছরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ৩০ ডিসেম্বর থেকে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উল্লেখযোগ্য ভেন্যুসমূহ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সারা দেশব্যাপী পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব ফোর্সেস কাজ করছে।
মুনীম ফেরদৌস বলেন, থার্টি ফার্স্ট ও ইংরেজি নতুন বছর কেন্দ্র করে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড টিম ও ক্রাইম সিন ভ্যানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা সাইবার জগতে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দেয়ার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংঘাতকে উস্কে দেয়ার অপচেষ্টা করবে তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
র্যাবের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, যেকোন ধরণের উচ্ছৃঙ্খলতা, মাদকাসক্ততা প্রতিরোধকল্পে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং হচ্ছে।
র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যা রয়েছে
যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সমগ্র দেশে র্যাবের গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল প্রস্তুত রয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর রাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে র্যাব। এছাড়াও র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সাইবার নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত অব্যাহত রেখেছে।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমণ্ডি, মিরপুরসহ অন্যান্য এলাকায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, অভিজাত হোটেল ও ক্লাব/বার এলাকায় আগে থেকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশের সকল বার ও মদের দোকানসমূহ বন্ধ রাখার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব কাজ করছে। এছাড়াও কক্সবাজার ও কুয়াকাটাসহ সকল পর্যটন এলাকায় উপলক্ষে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
পটকা, আতশবাজিসহ আগুন দ্বারা পরিচালিত ফানুস উড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আতশবাজি বা পটকা ফুটানো বা ফানুস উড়ানো বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বছর উদ্যাপন উপলক্ষে জনবহুল স্থানে, খোলা জায়গা বা বাসার ছাদে ও ফ্লাইওভারে কনসার্ট ও নাচ-গানের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হলো।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহন ও পথযাত্রীদের তল্লাশী পূর্বক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। র্যাবের টহল/চেকপোস্ট জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড দ্বারাও তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভিভিআইপি/ভিআইপি, বিদেশী কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে কর্মরত ও বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের এলাকায় গুরুত্বের সাথে নিরাপত্তা বিধান জোরদার করা হয়েছে।
চক্রান্তকারী/উস্কানীদাতা/উগ্রবাদী সংগঠন/নিষিদ্ধ সংগঠন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহপূর্বক নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও যে কোন ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
ভার্চুয়াল জগতে যেকোন ধরণের গুজব/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাব সাইবার মনিটরিং টীম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকছে।
বঙ্গভবন, রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা, বাংলাদেশ সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
উচ্চস্বরে গাড়ির হর্ণ বাজানো ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটর সাইকেল চালানো থেকে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বিরত রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নারীরা যাতে ইভটিজিং অথবা সম্মানহানীর শিকার না হন সে দিকে বিশেষভাবে সতর্ক দৃষ্টি রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন ধরণের নাশকতামূলকসহ যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জেলা/মহানগর এলাকা/থানা ভিত্তিক স্থানীয় র্যাবের সহযোগিতা পেতে টহল ইনচার্জ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত র্যাব ব্যাটালিয়ন অধিনায়নকে অবহিত করণসহ র্যাব’কে (র্যাব কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নাম্বারে মোবাইল: ০১৭৭৭৭২০০২৯) জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হলো।








