ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায়। নির্ধারিত সময়েই দেশের ২৯৯টি আসনের ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্রগুলো।
ভোট শুরুর আগেই বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভোর থেকে নারী, তরুণ ও বয়স্ক ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সকাল হওয়ার আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকায় এবারের ভোটকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা তুলনামূলক বেশি। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনের পর এবারের নির্বাচনকে অনেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোট থাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। সারাদেশে ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যালট, বাক্সসহ সব প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজারের বেশি প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অধিকাংশ আসনেই এই দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি লড়াই হচ্ছে, যা ভোটের উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।
প্রথমবারের মতো প্রবাসী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কারাবন্দী ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি চালু রয়েছে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ ও হটলাইন ৩৩৩।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। নাগরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন তারা।








