বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে ও বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় হল তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ। যেখানে উঠেছে পাতানো ম্যাচের অভিযোগ। এ ব্যাপারে গভীর তদন্তে নামছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মহানগর লিগ কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও বাফুফের সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন জানালেন এমন।
লিগে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী স্মৃতি সংসদের ফুটবলাররা গত মঙ্গলবার ম্যাচ শুরুর আগে মোবাইল নিয়ে ড্রেসিংরুমে ঢোকেন। ম্যাচ শেষে মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকেও পোস্ট হয়। অথচ ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা একেবারেই নিষিদ্ধ।
বিস্ময়কর হলেও সত্যি, বাইরে থেকে যেকেউ ঢুকে যেতে পারে ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে। মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে নেই কোনো প্রতিবন্ধক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাতে ফুটবলারদের সঙ্গে জুয়াড়িদের যোগাযোগ সহজ হওয়ার শঙ্কা থাকে।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। টেবিলের সাত নম্বরে থাকা দল আসাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমির বিপক্ষে ওইদিন ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী স্মৃতি সংসদের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচটি পাতানো ছিল বলেও রয়েছে সন্দেহ। শুধু ম্যাচ পাতানো নয়, অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সীদের নিয়ে হওয়া তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে বয়স চুরির অভিযোগ উঠেছে জোরালভাবেই।
১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় বিভাগের টেবিলে শীর্ষস্থানে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া চকবাজার আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগ লিগে খেলবে। সমান খেলায় ৩০ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকা ইলিয়াস আহমেদ স্মৃতি সংসদও কেটেছে দ্বিতীয় বিভাগের টিকিট।
আসাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমি ম্যাচ ছেড়ে দেয়াতেই টেবিলের দুইয়ে উঠে যায় ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী স্মৃতি সংসদ, অভিযোগ এমনই। যার ফলে স্কাইলার্ক ফুটবল ক্লাব টেবিলের তিনে নেমে যাওয়ায় তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলা হচ্ছে না।
কমলাপুর শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বুধবার লিগের শেষ ম্যাচে গ্রিন ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের মুখোমুখি হয় চকবাজার কিংস। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইলিয়াস হোসেন শুরুতে পাতানো ম্যাচের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরে বাফুফের সদস্য সচিব ইলিয়াস বলেন, ‘আমি ম্যাচ দেখিনি। ভিডিও দেখেছি। সেই ম্যাচ নিয়ে আমাকে যখন সন্দেহের কথা জানানো হল, তখন আমি অফিসকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলাম। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বাফুফের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হতে পারে পাতানো খেলা। তবে আমাদের মনে হয় না এটা পাতানো ছিল।’
সফলতার সঙ্গে এবারের লিগ পরিচালনা সম্ভব না হওয়া এবং ম্যাচ পাতানোর বিষয়টি পরে পরোক্ষভাবে স্বীকারও করেন ইলিয়াস হোসেন। বলেন, ‘আমি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আমাদের যারা কমিটিতে আছে, তাদেরও ব্যাপারটা দৃষ্টিতে আসতে পারে। আমি অস্বীকার করছি না। তবে আগামীদিনে এমনটা হবে না।’
ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী স্মৃতি সংসদের ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে মোবাইলে ছবি তোলা নিয়ে বাফুফের শীর্ষ এ কর্তার দিকে প্রশ্ন যায়। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ইলিয়াস বলেন, ‘আমার তদন্ত সাপেক্ষে যদি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আগামী দিনগুলোতে এএফসির শতভাগ আইন মেনে, বাফুফের কোড অব কন্ডাক্ট মেনে লিগ পরিচালনা করব।’







