বলিউডের ইতিহাসে মোহাম্মদ রফি শুধু একজন গায়ক নন, তিনি এক আদর্শ, এক নীতির প্রতীক। তার কণ্ঠে ছিল ঈশ্বরের আশীর্বাদ আর চরিত্রে ছিল এক অনন্য বিনয়।
পুরো ক্যারিয়ারে তিনি কখনও কারও কাছে কাজের অনুরোধ করেননি, এমন কী সেই সময়েও নয়, যখন ইন্ডাস্ট্রির কিছু প্রভাবশালী মানুষ তার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চেষ্টা করছিলেন।
তার ছেলে শহীদ রফি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে— এই দুই কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী মূলত ঈর্ষা ও নিরাপত্তার অভাব থেকে রফির সুনাম ও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
শহীদ স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমার বাবা ও কিশোর কুমারের মধ্যে কোন পেশাগত ঈর্ষা ছিল না। তারা একে অপরকে সম্মান করতেন।’
সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির সঙ্গে আলাপচারিতায় শহীদ আরও বলেন, ‘রফি সাহেব যখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর সম্মান অর্জনের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই লতাজির হস্তক্ষেপে পাল্টে দেয় ইতিহাসের গতিপথ। শেষ মুহূর্তে সেই গৌরব ছিনিয়ে নেন লতাজি। আমার বাবা বিষয়টি ছেড়ে দেন নীরবে, বিনা অভিযোগে।’
শহীদের দাবি, তার বাবার পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ছিল জটিলতা। তার মতে, ‘ওরা ঈর্ষান্বিত ছিল, কারণ রফি সাহেবের প্রতিভা ওদের থেকেও বেশি ছিল। মানুষ তাকে নম্বর ওয়ান বলছিল, আর সেটা ওদের সহ্য হচ্ছিল না। আমি শুনেছি, তিনি নয় বছর ঘরে বসেছিলেন, হতাশায় ভুগছিলেন। কিন্তু শুনুন, সাতের দশকে তিনি যে গান গেয়েছেন, প্রতিটি সুরে রয়েছে যেন আত্মার স্পর্শ।’
রফির ‘রেঞ্জ’ না থাকার অভিযোগ করেছিলেন আশা ভোঁসলে। এই প্রসঙ্গে শহীদ বলেন, ‘আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ; একটু লজ্জা থাকা উচিত। এই বয়সে এ সব কথা মানায় না। ওপরওয়ালা সব দেখছেন। আমার বাবার সম্পর্কে কেউ কিছু বললে আমি সহ্য করতে পারি না।’
শহীদ আরও বলেন, ‘লতাজি মারা যাওয়ার আগেই আমি এই কথাগুলো বলেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, বাবার তার কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন, লতাজি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার পতনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। কেউ আর আমাকে গান দিচ্ছে না। আমি আবার আপনার সঙ্গে গান গাইতে চাই। কিন্তু আমি জানি, আমার বাবা এমন কথা কখনও বলেননি। বরং লতাজিই সেই কথাগুলো বলেছিলেন। দু’জন মানুষ এসেছিলেন বাবার কাছে। তারা বলেছিলেন, রফি সাহেব, ওকে ক্ষমা করে দিন। তখন বাবা ছিলেন শিখরে। আর সেই কারণে ওরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।’
এই সাক্ষাৎকার থেকে আরও জানা যায়, রফি ও লতা মঙ্গেশকর ব্যক্তিগতভাবে আর কখনও কথা বলেননি, যদিও নার্গিস ও জয়কিষেনের অনুরোধে লতাকে ক্ষমা করে দেন রফি। তারা একসঙ্গে একটি অনুষ্ঠানও করেন, কিন্তু সম্পর্ক আর কখনও আগের মতো হয়নি। এই সময়







