বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই। আমাদের মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু সেটা যেন কখনোই মতবিভেদ পর্যায়ে না যায়।
নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তরুণরা পরিবর্তন ও আশার দিকে তাকিয়ে আছে। নতুন প্রজন্ম আশা দেখতে চাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতিকে সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে পারব। আমাদের তরুণ সমাজের অনেক প্রতিভা রয়েছে। তাদের কাজ আমরা ফেসবুক বা টিকটকে দেখতে পাই। এই প্রতিভার জন্য কিছু নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আমরা ভাবছি, কীভাবে তাদের ইনকাম নিশ্চিত করা যায়।
তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে না থাকতে পারলেও সারাক্ষণ যোগাযোগ রেখেছি। সবার তথ্য রাখার চেষ্টা করেছি। গত ১৬ বছরে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের কথা আমি জানি। পাশপাশি আমার নেতাকর্মী এবং আমার মা নির্যাতনের শিকারের বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করেন, তাদের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেন, তাহলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। যারা দেশে ছিলেন, তারা অবশ্যই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমার চেয়ে ভালো জানেন। তবে আমি একেবারেই কিছু জানি না এটি সত্য নয়। আমারও একটি ধারণা রয়েছে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে এই মতপার্থক্য নিয়ে আমরা খোলাখুলি আলোচনা করতে পারি।
তিনি বলেন, “গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের গভীরভাবে ভাবা উচিত।” এছাড়া দেশের পানি দূষণ নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একের পর এক নদী দূষণ হচ্ছে। এর সমাধান নিয়ে সংসদে এবং সেমিনারে আলোচনা হওয়া উচিত।”
নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে এক নারী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, শুধু নারীর নয়, নারী ও পুরুষ সবারই নিরাপত্তা প্রয়োজন। বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, আর পরবর্তীতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি এনেছেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
নিজের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে পারিনি, কিন্তু সারাক্ষণই মন দেশেই ছিল।” মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি ব্যতিক্রমী অনুরোধও জানান তারেক রহমান। এক সাংবাদিক তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, “দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় সম্বোধন করবেন না।”







