ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের তেমন কোনো ভীড় লক্ষ্য করা যায়নি। ঈদযাত্রা শুরু হলেও টিকিট কাউন্টারগুলোতে কাঙ্খিত যাত্রীর দেখা মেলেনি। অগ্রিম টিকিটের বেচা বিক্রিও তেমন নেই। আশানুরূপ যাত্রী না পেয়ে শঙ্কায় রয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। তবু যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত তারা। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে লঞ্চ ভাড়া বাড়েনি বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, তেমন কোনো কোলাহল বা ঈদে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ এখনো পড়েনি৷ ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনও অনেকটাই সুনসান অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও এখনও তেমন সাড়া মিলছে না যাত্রীদের। টার্মিনাল এলাকায়ও নেই তেমন হাঁকডাক। কিছু যাত্রী এলেও সক্ষমতার তুলনায় তার সংখ্যা নগণ্য।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়কপথে যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এক সময়ের ভরসাস্থল নদীপথের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর আগাম টিকিট বিক্রি হচ্ছে ঢিমেতালে।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন ঢাকা থেকে অন্তত অর্ধ লাখ মানুষ লঞ্চে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যেত। কিন্তু এখন তা অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।
সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের স্টাফ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীরা কেবিন চাইলে আমরা এখন থেকেই বুকিং নিচ্ছি। গতবারের চেয়ে এবার বেশি যাত্রী আশা করছি। সে আশা থেকেই এখন যে আসছে বা যোগাযোগ করছে বুকিং নিয়ে নিচ্ছি।’
লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, ৬ এপ্রিল থেকে ঢাকা বরিশাল রুটে ৩৮টি নিয়মিত লঞ্চসহ ঈদের বিশেষ লঞ্চ চলাচল করবে। তবে এখনো আশানুরূপ টিকিট বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় তারা।
এম. ভি তাসরিফ ৩ এর টিকেট ম্যানেজার আব্দুর রহিম বলেন, এখনো ঈদের ভীড় পড়েনি৷ আগের মতই যাত্রী চলাচল। আশা করছি কাল পরশু থেকেই যাত্রী পাওয়া যাবে।
এমভি পূবালী-৬ এর টিকেট বিক্রয়কর্মী জাকারিয়া ইসলাম বলেন, এখনও উল্লেখযোগ্য ঈদ যাত্রী পাচ্ছি না। অল্প কিছু পাচ্ছি। তাতে যে আমাদের লঞ্চ পূর্ণ হয়, ব্যাপারটা এমনও না। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়ছে- এটা ঠিক। আর অগ্রিম টিকেট নিতে আসছে বেশি।
হতাশা প্রকাশ করে বরিশালগামী এমভি পারাবত-১৮ লঞ্চের সুপারভাইজার মোখলেছুর রহমান বলেন, সারাদিন লঞ্চে বসে থাকি। দুপুর পর্যন্ত একটিও অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়নি। পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা সড়কপথে যাচ্ছেন। এজন্য এখন ঈদের আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় কম।
রাজধানীর ডেমরা থেকে আসা বরিশালগামী যাত্রী আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পরিবার সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য এসেছি। আমি পরে যাব। এবার লঞ্চ ঘাটে ভোগান্তি কম হয়েছে। ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট পেয়েছি।’
সুন্দরবন ১৪ লঞ্চটির গন্তব্য পটুয়াখালী-বগা-ঢাকা। এটির টিকেট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ যাত্রীদের তেমন কোনো ভীড় নেই৷ আজ আগের ভাড়া নিচ্ছি, তবে রবিবারের অগ্রিম টিকিট দ্বিগুণ লাগতে পারে। রবিবারের অগ্রিম টিকিটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ডাবল কেবিন ৩৫০০ সিঙ্গেল কেবিন ২৬০০ লাগবে।
সুন্দরবন ১৬ এর সুপারভাইজার জসিম মিয়া জানান, কেবিনের চাহিদা আজ কম। তবে অগ্রিম নিচ্ছে অনেকেই। অগ্রিম বলতে রবিবারের জন্য সিঙ্গেল কেবিন ১১০০ টাকা আর ডাবল কেবিন ২২০০৷
এমভি ফারহান-৭ এর সংশ্লিষ্টরা জানান, আজকের জন্য কেবিন আছে, অগ্রিম নিতে হলে স্টাফদের কেবিন নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সিঙ্গেল কেবিন ৩৫০০ টাকা লাগবে।
শাহরুখ-২ এর গন্তব্য বরগুনা। লঞ্চটির স্টাফ বলেন, আমাদের ডেকের ভাড়া ৫০০-৬০০। আর কেবিন নিলে সিঙ্গেল পড়বে ১৬০০।
ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, নানাবিধ কারণে বর্তমানে লঞ্চ সংখ্যা কমে গিয়েছে। এখন ৪১টি রুটে প্রায় ৬০টির মতো লঞ্চ চলছে। ঈদের চাপ এখনো শুরু হয়নি। শনিবার বা রবিবার থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। চাপ সামাল দিতে বিশেষ লঞ্চ চলবে। এ চাপের উপর নির্ভর করছে যেসব রুটে এখন লঞ্চ চলছে না সেসব রুটেও কি লঞ্চ চলবে বা কতটি লঞ্চ চলবে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র্যাব, মেট্রোপলিটন পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিস দল উপস্থিত থাকবে।
টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সদরঘাট নৌ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ঈদকে ঘিরে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে। পুলিশের টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। টার্মিনালে সবসময় পুলিশ থাকবে। বিআইডব্লিউটিএর সদস্যরা থাকবে, সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে, আর টার্মিনালে র্যাবের সদস্যরাও অবস্থান করবেন। ঈদের আগ মুহূর্তে ভিড় হতে পারে। আর সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।








