ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নেই শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিচয়পত্র। শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে ব্যবহার করতে হয় হল কার্ড, মেডিকেল কার্ড এবং লাইব্রেরি কার্ড। একটি নির্ধারিত আইডি কার্ড না থাকায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অবাধে স্থানীয়রা শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মেও লিপ্ত হচ্ছে দিন দিন। ফলে মারামারি, চুরিসহ নারী শিক্ষার্থীরা শিকার হচ্ছে ইভটিজিংয়েরও।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টির লেকে স্থানীয়দের সহজ চলাচলের কারণে অশ্লীলতার হার বেড়ে চলছে। এর ফলে লেক বিমুখ হচ্ছে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লেকের সৌন্দর্য হ্রাস পেয়ে, বৃদ্ধি পাচ্ছে বিশৃঙ্খলা এবং অশ্লীলতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনসার সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে বহিরাগতরা ঢুকে যায়। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আইডি কার্ড না থাকায় অনেকসময় ওদের চেকিং করতে গেলে তারা বিভিন্ন ছাত্রনেতার পরিচয় দিয়ে পার হয়ে যায়। আমাদের জন্যও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি যেহেতু গ্রাম কেন্দ্রিক, সেহেতু বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের শহরগামী হতে বাস যাতায়াতকেই প্রাধান্য দিতে হয়। এ ক্ষেত্রেও নিজস্ব আইডিকার্ড না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাস কনট্রাক্টর দ্বারা লাঞ্চনার স্বীকার সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালায় পড়ুয়া এক নারী শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেওয়ার মতো কোন নিদিষ্ট কোন পরিচয়পত্র নেই। হলে হল কার্ড, মেডিকেলে মেডিকেল কার্ড এবং লাইব্রেরিতে লাইব্রেরি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয়, যা আমাদের জন্য এক আলাদা ভোগান্তি।
আরেক শিক্ষার্থীর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যানওয়ালা মামাদেরও নিজস্ব পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও আমাদের পরিচয় দিতে ব্যবহার করতে হয় তিনটিরও বেশি কার্ড, যা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন আজাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর একটা কার্ডের থাকাই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। যেন একটি স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে সকল ধরনের সেবা ভোগ করা যায়। এজন্য সমন্বিতভাবে ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজন। কাজটি আইসিটি সেল-এর মাধ্যমে করা যেতে পারে। ভর্তির পর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি ডিজিটাল কার্ড প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কার্ড ভেরিফাই-এর জন্য দপ্তরগুলোতে মেশিন বা লজিস্টিক সাপোর্টের দরকার হবে।
এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোয়াদ্দার বলেন, আমি গতবছর জুলাইয়ে যোগদানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটা কথা অনেক বার বলেছি যে, ওয়ান ‘স্টুডেন্ট ওয়ান আইডি কার্ড’ প্রদান করতে হবে। এই একটা ফাইলকে এতবার ঘুরানো হয়েছে যে আমি আগ্রহই হারিয়ে ফেলছি। আমি যে আইডি কার্ডের প্রস্তাব করেছিলাম, সেটা ভিসা কার্ডের মত স্মার্ট হবে যেটা পাঞ্চ করে ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটা স্টুডেন্টদের জন্যই স্মার্ট আইডি কার্ড তৈরির বিষয়ে প্রশাসনকে আমরা অনেকবারই বলেছি। কিন্তু প্রশাসন থেকে সাড়া না পাওয়ায় এখনো সেটি বাস্তবায়নের অবস্থায় যায়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আইডি কার্ডের দাবির বিষয়ে আজকে আমি প্রথম জানলাম। একটা আইডি কার্ড ব্যবস্থা থাকলে তা সবার জন্য ভালো হয়। বিষয়টি নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায় তার জন্য আমি আইসিটি সেলের সাথে আলাপ করবো।







