উত্তাল সূর্য থেকে ঠিকরে পড়ছে আলো, শুরু হয়েছে সৌরঝড়। আর এই ঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর আকাশে দেখা যাচ্ছে বর্ণিল নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা। অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপের আকাশে এই মহাকাশীয় আলো দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকেও দেখা যাচ্ছে বিরল এ দৃশ্য। এমনকি ভারতের লাদাখে প্রথমবারের মতো চোখে পড়েছে এই অরোরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) এর মতে, গত (১০ মে) শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে প্রথম দফায় পৃথিবীতে একটি শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হানে। এর প্রভাবে প্রায় অর্ধেক বিশ্ব থেকে দেখা যাচ্ছে এ অরোরা। এর প্রায় ২০ বছর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবরে পৃথিবীতে এই ধরনের শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছিল।

অরোরার নানান নাম
বিশেষ এই মহাকাশীয় আলো নর্দার্ন লাইটস, পোলার লাইটস কিংবা অরোরা নামে পরিচিত। বাংলায় যার নাম মেরুজ্যোতি বা সুমেরু প্রভা। কারণ মেরু অঞ্চলেই সাধারণত এই বিশেষ আলো দৃশ্যমান হয়। উত্তর মেরুতে একে বলা হয় ‘অরোরা বোরিয়ালিস’। আর দক্ষিণ মেরুতে এই আলো ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ নামে পরিচিত।

যেভাবে তৈরি হয় আলোর নাচন
সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ধেয়ে আসা সৌরকণা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বাধা পায়। কিছু কণা বায়ুমণ্ডলে ঢুকে মেরু অঞ্চলে পৌঁছায়। সেখানে তারা বায়ুর অণুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এমন আলোর জন্ম দেয়। মেরু অঞ্চলে এই ঝড় পৌঁছালে, বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে থাকা গ্যাসীয় অণুর সঙ্গে রাসায়নিক ক্রিয়া করে সৌর কণা, তৈরি হয় মেরুজ্যোতির। যত তীব্র থাকে কণার গতি ও আধান, তত উজ্জ্বল হয় মেরুজ্যোতি।

২০২৪ সালটি অরোরার জন্য বিশেষ
প্রতিবছরই একটি নির্দিষ্ট সময় সৌরঝড়ের প্রভাবে মেরু অঞ্চলগুলোতে এই বিশেষ আলো দৃশ্যমান হলেও এবছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী থেকে দেখা যাচ্ছে এই দৃশ্য। কারণ ২০০৩ সালের পর এবছর তীব্রতম সৌরঝড় আছড়ে পড়েছে পৃথিবীতে। যাকে বলা হচ্ছে জি-ফাইভ গোত্রের জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম।

যখন বাড়ে অরোরার আলো
বিজ্ঞানীদের দাবি, ১১ বছর অন্তর তীব্রতার শিখরে ওঠে সূর্যের এই ঝড়, এতেই বাড়ছে অরোরা। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বাড়ছে যে, মেরু অঞ্চল ছাড়িয়ে ইতালি, লন্ডন হয়ে মেরুজ্যোতি দৃশ্যমান হয়েছে ভারতের লাদাখেও। সপ্তাহজুড়ে আরও কয়েকটি তীব্র ঝড় আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীতে। ফলে আরও কয়েক দিন দেখা যেতে পারে এমন অরোরা।

আলোর নিচে অন্ধকার
সূর্যের এই ঝড় পৃথিবীতে ছড়াচ্ছে মহনীয় আলো, তবে আঁধারে ডুবিয়ে দেওয়ার ভয়ও নেহাত কম নয়। এই শক্তিশালী সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। যার প্রভাবে স্যাটেলাইট ও বিদ্যুৎ গ্রিডে পড়ে ‘ব্ল্যাক আউট’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবরে পৃথিবীতে এই ধরনের শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হানার ঘটনায় সুইডেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।








