ঘড়ির কাঁটায় ১২টা পার হয়েছে। আজ বুধবার (১ জানুয়ারি) ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন দেশ নানা আয়োজন করেছে। আতশবাজি, আলো ঝলমলে উৎসব এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশেও খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
লন্ডনের বিগ বেনের ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে বল ড্রপিং ইভেন্ট এবং সিডনির অপেরা হাউসের রঙিন আলোর ঝলকানি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। জাপানের টোকিওতে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রার্থনা এবং চীনের বেইজিংয়ে লণ্ঠন উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশ্বনেতারা নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় অত্যাধুনিক লেজার ও আতশবাজির শো চোখ ধাঁধানো পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বিশ্বে সবার আগে নতুন বছর ২০২৫ সালকে স্বাগত জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কিরিবাতি। নববর্ষ উদযাপনকারী প্রথম এই দেশটি সবার আগে নতুন বছরে পদার্পণ করেছে।
২০২৫ সালের নতুন সূর্যোদয়ের সাথে বিশ্ববাসী নতুন করে সব শুরু করার আশা করছে। মানুষ পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করবে। অনেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নতুন লক্ষ্য স্থির করেছেন। সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় সবাই নতুন বছরটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর হিসেবে দেখছেন।
রোমান নববর্ষের উদযাপন এক সময় পাশ্চাত্যের অন্যতম পুরোনো একটি উৎসব ছিল– যা ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চালু হয়। ওই উৎসব নানা প্রতীকী বিষয় দিয়ে পূর্ণ ছিল এবং একে রোমান সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হতো। দেবতা জানুসের নামানুসারে জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয়েছে আর এই উৎসবের মধ্য দিয়ে পুরোনো এবং নতুনের মধ্যে মেলবন্ধন রচনা করেছিলেন বলে পৌরাণিক আখ্যানে উল্লেখ রয়েছে।
এই বর্ষপঞ্জি চাঁদের বছর ধরে পালন করা হতো এবং এটি প্রায় ১,৬০০ বছর ধরে চলেছিল। তারপর, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রচলন করেন (১৫৮২ সালে) পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ। নববর্ষের দিনটি ক্যালেন্ডার বছরের প্রথম দিন বা পহেলা জানুয়ারি। বেশিরভাগ সৌর ক্যালেন্ডার (যেমন গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান) উত্তরের শীতকালীন অয়নকালে (সাধারণত ২১ ডিসেম্বর) বা তার কাছাকাছি সময়ে নিয়মিতভাবে বছর শুরু করে থাকে।
রোমানরা বিশ্বাস করত যে, নতুন বছরের জন্য নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষ আগের বছরের ভুল-ত্রুটি পেছনে ফেলে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আত্মনিয়োগ করবে। রোমান নববর্ষ উদযাপনের সময় মোমবাতি জ্বালানো এবং নানা সবুজ বস্তুসামগ্রী দিয়ে ঘর সাজানো হতো। এর মাধ্যমে নতুন আশা এবং পুরাতন আকাঙ্ক্ষার নবায়ন করা হতো।
বেশিরভাগ দেশ এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে তাদের নাগরিক ক্যালেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ক্যালেন্ডার অনুসারে, ১ জানুয়ারি বিশ্বের বেশিরভাগ স্থানেই সরকারি ছুটি পালিত হয় এবং নববর্ষের আগের দিন মধ্যরাতে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়।








