পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর মার্কিনিদের সাথে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রথমবারের মতো সরাসরি কথা বলছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আল জাজিরার সাংবাদিক আলী হাশেম ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বলেছেন, পাকিস্তানের রাজধানী থেকে আলোচনার মাধ্যমে কি খবর আসে সেই অপেক্ষায় আছেন ইরানিরা। তিনি বলেছেন, মার্কিনি ও ইরানিদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়ে গেছে। এই আলোচনায় অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ করতে হবে এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু এবারের আলোচনাটি শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতিই নয়। এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ বছর ধরে চলা শত্রুতারও বিষয়।
আলোচনায় যে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ধরা হচ্ছে—
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম কার্যক্রম বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইএইএ’র কড়া নজরদারি চায়। অপরদিকে, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি ও সার্বভৌম অধিকার দাবি করছে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরান সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।
হরমুজ প্রণালি: ইরান এ প্রণালিতে একক নিয়ন্ত্রণ ও ইরানি মুদ্রায় টোল আদায়ের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব: ইরান মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস ও বাহিনী প্রত্যাহার চায়, পাশাপাশি অঞ্চলে অভিযান বন্ধের দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্র আবার হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহায়তা বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের হামলার জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষের পথে থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, তাৎক্ষণিক বড় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আস্থা গড়ে উঠলে ধাপে ধাপে আলোচনা চলতে পারে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়তে পারে।
যেহেতু এবার দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতারা বৈঠকে বসেছেন, তাহলে কি সবকিছু ছাপিয়ে তারা চুক্তি করতে পারবেন? নাকি আগের মতো আবারও ব্যর্থ হবেন, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তেহরানের মানুষ।







