ডিজিটাল ব্যস্ততার যুগে কাগজ-কলমের চিঠিকে আবার মানুষের হৃদয়ে ফিরিয়ে আনতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কাব্য কুহক ও পারফরমার্স ক্লাব আয়োজিত ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘হিমবেলা চিঠি মেলা’। নভেম্বরের হিম সন্ধ্যায় চিঠির পাতায়-পাতায় জমে থাকা অনুভূতি, আবৃত্তির উষ্ণতা এবং দর্শকদের আবেগ মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক স্নিগ্ধ মানবিক মিলনমেলায়।
গত ২৯ নভেম্বর (শনিবার) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এই চিঠিমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলার মূল আকর্ষণ ছিল চিঠি পাঠ পর্ব, যেখানে অতিথি শিল্পী ও কাব্য কুহুক সদস্যরা নিজেদের প্রিয়, স্মৃতিমধুর ও স্নেহমাখা চিঠি পাঠ করেন। অ্যাডভোকেট সীমা ইসলাম, জাহান বশির, পারভেজ চৌধুরী, জেবুন্নেসা মুনিয়া, রশিদ কামাল, আনিসুর রহমানসহ অনেকে অনুষ্ঠানে চিঠি পাঠ করেন।
এসময় কেউ শোনান শৈশবের গল্প, কেউ প্রথম প্রেমের দিনলিপি, কেউ মায়ের হাতের লেখা চিঠির আবেগ। প্রতিটি চিঠি, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নীরবতা—শ্রোতাদের হৃদয়ে ছুঁয়ে যায় গভীরভাবে। এছাড়া শিশু ও কিশোরদের জন্য আয়োজিত ছোট্ট চিঠি লেখার প্রতিযোগিতা মেলায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। তাদের শিশুসুলভ অনুভূতি, সরল বাক্য আর হাসিমাখা উপস্থাপনা দর্শকদের মন ভরিয়ে তোলে। এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক মীর বরকত।
কাব্য কুহকের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন, চিঠি শুধু একটি মাধ্যম নয়; এটি অনুভূতির স্বাধীন যাত্রা। আজকের শিশুরা মোবাইলের বাইরে নিজেদের ভাষাকে চেনার সুযোগ কম পায়। আমরা চাই তারা আবার কাগজ-কলমের সাথে পরিচিত হোক—লেখায় খুঁজে পাক নিজের সত্যিকারের অনুভূতি। আমাদের উদ্দেশ্য লোক দেখানো অনুষ্ঠান নয়; বরং মানুষের ভেতরের শিল্পবোধ গড়ে তোলা। ‘হিমবেলা চিঠি মেলা’ সেই মানবিক যাত্রারই অংশ।
চিঠিমেলায় আয়োজিত শীতকালীন নতুন সদস্য নিবন্ধন (স্পট রেজিস্ট্রেশন) ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকে নিজ থেকেই কাব্য কুহকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশন করা হয় শীতের পিঠা ও চা। চিঠি, শব্দ, আবৃত্তি ও গল্পে জমে ওঠে হৃদয়স্পর্শী এক মানবিক সন্ধ্যা।







