বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজন করতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।
গতকাল সোমবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংবাদদাতার বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ম্যাথিউ মিলার।
ব্রিফ্রিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রত্যাশাকে রাশিয়া, চীন এবং ইরান ‘হস্তক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেছে। গত সপ্তাহে আমরা দেখেছি রাশিয়া, চীন এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে। ইরান তাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারি সম্প্রচার করেছে। যদিও নর্থ কোরিয়া থেকে এ ইস্যুতে এখনো কোনো বিবৃতি আমার চোখে পড়েনি! এবিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
জবাবে মিলার বলেন, আমি জানিনা কেন এমনটা বলা হচ্ছে। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের এই দাবিতে যে কেউ আপত্তি জানাতে পারে। তবে যে বিষয়টা এখানে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই তা হলো, আমরা অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেই অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ৫০ বছরের। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। আমরা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে (জেনুইন ডেমোক্রেটিক প্রসেস) সমর্থন করি। আমি জানিনা অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আহবানে তাদের আপত্তি কেনো? কেনোইবা এ বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেনা। এর আগে অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছি- অন্য কোনো দেশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে তখন সেটাকে আমরা হস্তক্ষেপ মনে করিনা, বরং এই সমালোচনাকে আমাদের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার সহায়ক হিসেবে মনে করি।
ব্রিফ্রিংয়ে আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, আন্ডার সেক্রেটারি জেয়া এবং সহকারী সেক্রেটারি লু বাংলাদেশ এবং ভারত সফরে রয়েছেন। সরকার এবং বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন?
জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট মুখপাত্র বলেন, আপনি যথার্থ বলেছেন। আন্ডার সেক্রেটারি জেয়া জুলাইয়ের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি মানবাধিকার, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, শ্রম, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ নিয়ে কথা বলবেন। এছাড়াও তিনি মতপ্রকাশ এবং সংগঠনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, শ্রম, পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র নিয়ে সিভিল সোসাইটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।








