বিশ্বে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এক নম্বরে। ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে তারা ১০৭টি দেশকে অস্ত্র দিয়েছে। মোট অস্ত্র রপ্তানির ৪৩ শতাংশ আমেরিকা থেকে হয়।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (সিপরি)-এর রিপোর্ট এটি জানা গেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ২০১০ থেকে ২০১৯-এর তুলনায় মোটের উপর একই আছে। কিন্তু একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ক্রেতাদের উপর ভয়ংকরভাবে পড়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ইউক্রেন সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করেছে। তারা অস্ত্র আমদানির পরিমাণ অনেকগুণ বাড়িয়েছে। তারাই এখন অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে এক নম্বরে আছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ পন্ত সারা বিশ্ব জুড়ে যে অস্ত্র রপ্তানি হয়েছে, তার নয় শতাংশ হয়েছে ইউক্রেনে।
রাশিয়ার আগ্রাসন ও মার্কিন আশংকা:
এই একই সময়ে ইউরোপের দেশগুলিতে অস্ত্র কেনার পরিমাণ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এটাও ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব। সিপরির রিপোর্ট বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার ফলেও অস্ত্র কেনাবেচার পরিমাণ বেড়ে গেছে।
এই রিপোর্টের একজন লেখক ম্যাথু জর্জ বলেছেন, রাশিয়া আক্রমণ করতে পারে, এই ভয় থেকেই ইউরোপ বেশি করে অস্ত্র কিনছে। এর আগে যারা সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করতো সেই সৌদি আরব, ভারত, চীন ওই সময়ের মধ্যে অস্ত্র কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
রিপোর্ট বলছে, ৩৫টি দেশ ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েছে। তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ অস্ত্র গেছে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জার্মানি ১২ শতাংশ ও পোল্যান্ড ১১ শতাংশ অস্ত্র দিয়েছে।
এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে ইউক্রেনের কতটা সমস্যা হবে। ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ইউক্রেনই হলো অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে প্রথম ১০-এ থাকা একমাত্র ইউরোপের দেশ। ইউরোপের অনেক দেশ অস্ত্র আমদানির পরিমাণ বাড়ালেও প্রথম ১০-এ নেই। ইউক্রেন অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে এক নম্বরে এবং দুই নম্বরে আছে ভারত। তবে ভারত অস্ত্র কেনার পরিমাণ কমিয়েছে।
সিপরি আর্মস ট্রান্সফার প্রোগ্রামের সিনিয়র গবেষক পিটার ওয়েজম্যান বলেছেন, আমেরিকার থেকে অস্ত্র আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। ইউরোপের দেশগুলি আমেরিকা থেকে পাঁচশটি যুদ্ধবিমান ও অন্য অস্ত্র কেনার বরাত দিয়ে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে
বিশ্বে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে আমেরিকা এক নম্বরে। ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে তারা ১০৭টি দেশকে অস্ত্র দিয়েছে। মোট অস্ত্র রপ্তানির ৪৩ শতাংশ আমেরিকা থেকে হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের তুলনায় তাদের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ চারগুণেরও বেশি বলে ম্যাথিউ জর্জ জানিয়েছেন।
২০১৫ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ৬৩ শতাংশ কমেছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে তারা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম অস্ত্র বিক্রি করেছে।
গবেষক ওয়েজম্যান বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি অনেকটাই কমে গেছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা অন্য দেশে অস্ত্র বিক্রি করতেও পারছে না। যদি কোনো দেশের সঙ্গে তারা অস্ত্র কেনাবেচা করতে পারে, তাহলে সেটা হলো চীন ও ভারত।
সুত্র: ডয়চে ভেলে







