উত্তর মেরুর আকাশে দেখা মিলছে অরোরার বর্ণিল আলোর খেলার। আর তারই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পর্যটকেরা ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বর্ণিল হয়ে ওঠে মেরু অঞ্চলগুলোর রাতের আকাশ, যা পরিচিত নর্দার্ন লাইটস, পোলার লাইটস কিংবা অরোরা নামে। বাংলায় যার নাম মেরুজ্যোতি বা সুমেরু প্রভা। তারই অপার্থিব সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন পর্যটকরা।

অরোরার, পোলার লাইটস বা মেরুজ্যোতি দুই ধরনের। উত্তর মেরুতে একে বলা হয় ‘অরোরা বোরিয়ালিস’। আর দক্ষিণ মেরুতে এই আলো ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ মেরুতে জনবসতি নেই এবং সেখানে যাওয়াটাও সহজ নয়। তাই অরোরার টানে পর্যটকরা ভিড় করেন উত্তরে মেরুতেই।

মূলত স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে নর্দার্ন লাইটসের এমন স্বর্গীয় আলোর দেখা মিলে। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ডের একাংশ, অ্যালাস্কা এবং সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এই মেরুজ্যোতির দেখা মেলে। এমনকি যুক্তরাজ্য, জার্মানি উত্তরাঞ্চল থেকেও এই আলোর বৃষ্টি দেখা যেতে পারে।

মূলত, সৌর ঝড়ের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ধেয়ে আসা সৌর কণা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বাধা পায়। কিছু কণা বায়ুমণ্ডলে ঢুকে মেরু অঞ্চলে পৌঁছায়। সেখানে তারা বায়ুর অণুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এমন আলোর জন্ম দেয়।

মেরুজ্যোতির আলোর রঙ বা ধরন যে এক হবে তা নয়। সাধারণত বিভিন্ন দিক থেকে চার ধরনের পোলার লাইটস দেখতে পাওয়া যায়। এর রঙেও থাকে ভিন্নতা।

কাছ থেকে এমন স্বর্গীয় দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতি বছর এইসময় বিপুল মানুষ ছুটে যান স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে। তুষার ঢাকা বিরূপ আবহাওয়াতেও রাতেরবেলা জেগে থাকেন তারা। সেখানকার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় ক্যাম্প করে আলোর খেলা উপভোগ করেন তারা।

স্বাভাবিকভাবেই রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশই অরোরা উপভোগের সবচেয়ে ভালো সময়। অক্টোবর থেকে এপ্রিল এজন্য সবচেয়ে উপযোগী। তবে পোলার লাইটস কেউ দেখতে পাবেন কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। এজন্য আকাশ পরিষ্কার থাকা চাই। অরোরার স্থায়িত্ব পাঁচ মিনিট থেকে শুরু করে আধ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
সূত্র: ডয়েচ ভেলে








