সচিবালয়ের লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া কাভার্ডভ্যান চালককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গণপূর্ত ভবনের সামনে দিয়ে ওই কাভার্ডভ্যানচালক দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা সামনে গিয়ে ব্যারিকেড দিলে চালক কাভার্ডভ্যান থামান।
পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তেজিত মানুষজন চালককে মারতে উদ্যত হন, কিন্তু সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য বিকল্প পানির ব্যবস্থা করছিলেন। এ সময় তিনি পাইপ কাঁধে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। মাথায় পরা হেলমেটটি সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায় এবং রাস্তায় রক্তের দাগ দেখা যায়।
এদিকে সচিবালয়ের সামনে আগুন নির্বাপণের কাজের সময় ট্রাকচাপায় আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মো. সোহানুর জামান নয়ন নামের ওই ফায়ার ফাইটারের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে। মূল কর্মস্থল সিলেটের বিশ্বনাথ ফায়ার স্টেশন হলেও সর্বশেষ তিনি তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনে দায়িত্বরত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল আজ সকাল পৌনে ৭টার দিকে সচিবালয়ের সামনে ব্রিফিংয়ে এসে নয়নের মৃত্যুর খবর দেন।
তিনি বলেন, “আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।”
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ফায়ার ফাইটার সোহানুর জামান নয়ন ২০২২ সালে ৬১তম ব্যাচে যোগ দিয়েছিলেন অগ্নি নির্বাপক বাহিনীতে। তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার আটপনিয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে। ২৪ বছর বয়সী নয়ন ছিলেন দুই ভাইবোনের মধ্যে ছোট।
এর আগে রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে রাত ১টা ৫৪ মিনিট থেকে। এর কয়েক মিনিটের মাথায় আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ১৮ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।







