এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না দেওয়ার দাবিতে সচিবালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে পরীক্ষার্থীদের একটি দল। দাবি না মানা পর্যন্ত সচিবালয়ের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার ২০ আগস্ট দুপুরে শিক্ষার্থীরা পল্টন থেকে একটি মিছিল বের করে গুলিস্তানের দিকে যায়। সচিবালয়ের একটি গেট খোলা থাকায় ঐ গেট দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী ভেতরে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সচিবালয়ের কর্মীরা তাদের অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন। এসময় পুলিশ নীরব অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন: আমরা আর এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে চাই না। ইতোমধ্যে সাতটি পরীক্ষা হয়েছে, তার ফলাফল প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি যে ছয়টি পরীক্ষা হয়নি সেগুলোর ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট অনুযায়ী রেজাল্ট দেওয়া হোক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিজেদের মেধার প্রমাণ দেবো। আমরা কোন ধরনের অটো পাস চাই না।
এর আগে, মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপাতিত্বে এক মভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয়: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা অর্ধেক প্রশ্নোত্তরে অনুষ্ঠিত হবে। আর পরীক্ষা ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ২ সপ্তাহ পিছিয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীরা এখন এ সিদ্ধান্তের বাতিল দাবি করে অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। প্রথমে গত ১৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তারপর একসঙ্গে ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয় ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু পরে জানানো হয়, ১১ আগস্ট পরীক্ষা হচ্ছে না।
শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র বলেছিল, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় থানায় হওয়া হামলায় প্রশ্নপত্র রাখা ট্রাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য ১১ আগস্ট থেকে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছিল।








