আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামাস ইসরায়েলের একটি সঙ্গীত উৎসবে অংশগ্রহণকারী ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তার মধ্যে থাকা একজন নারী এনডিটিভিকে তার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গত শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাতে দক্ষিণ ইসরায়েলের গাজা সীমান্তের কাছে সুপারনোভা উৎসবে যখন হামাস বাহিনী হামলা শুরু করে তখন শরভিত নামের ওই নারী এবং তার স্বামী ইদান বন্ধুদের সাথে পান করছিলেন। তখন কেউ একজন আকাশের দিকে ইশারা করে চিৎকার করে বলেন, রকেট! পরে আক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে আতঙ্কিত লোকজন একটি মাঠে ছুটে যায়।
২৩ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী সরভিত বলেন, আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। পরে দেখতে পেলাম গাজা থেকে আমাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তখন আমরা আমাদের জীবনের জন্য দৌড়াচ্ছিলাম। সন্ত্রাসীরা আমাদের দিকে চারদিক থেকে গুলি চালাচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সগুলো আহতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু তাদেরও গুলি করা হচ্ছিল। আমি, আমার স্বামী এবং আমাদের দুই বন্ধু পুরো এলাকা জুড়ে দৌড়াচ্ছিলাম। কোথায় যাচ্ছি তা না জেনেই আমরা শুধু দৌড়াতে থাকি।
তিনি বলেন, বাড়িতে আমাদের দেড় মাস বয়সী একটি বাচ্চা ছেলে ছিল। আমাদের মনে একমাত্র চিন্তা ছিল কে তার যত্ন নেবে? এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গিয়ে কাঁদতে শুরু করি। অবশেষে প্রায় ১৫ জনের একটি দল নিয়ে আমরা একটি বসতিতে পৌঁছাই। আমরা হয় সেখানে থাকতে পারতাম বা লুকিয়ে থাকতে পারতাম অথবা পাশের প্রদেশে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু সেখানেও অস্ত্রধারীরা এসে পড়লে আমরা আবার দৌড়াতে থাকি।
পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তারা আরেকটি বসতিতে পৌঁছান। সেখানে এক দম্পতি তাদের খাবার, পানি এবং মৃত্যুর তাড়া থেকে অবকাশ দেন। বিকেলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী দল তাদের একটি শাটলের ব্যবস্থা করে দেয়। এটি তাদের দক্ষিণ ইসরায়েলের শহর বেয়ের শেভাতে নিয়ে যায়।
শরভিত বলেন, আমাদের বাবা-মা আমাদেরকে বেয়ের শেভা থেকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। পার্টিতে থাকা আমার দুই বন্ধুকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চার ঘণ্টা ধরে একটি ঝোপের নিচে লুকিয়ে ছিল। আমরা একটি পার্টিতে গিয়েছিলাম এবং চোখে জল নিয়ে ফিরে এসেছি। বন্ধুদের মরতে দেখেছি। আমরা পরিবারগুলোকে ধ্বংস হতে দেখেছি। আমরা বেঁচে থাকার জন্য ঈশ্বরের কাছে খুব কৃতজ্ঞ।
এই হামলার পর, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশটিকে ‘যুদ্ধের রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এখন শরভিতের মতো হাজার হাজার মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ ইসরায়েল প্রত্যাশা করেন যেখানে তাদের সন্তান যুদ্ধের ভয়াবহতা না দেখে বড় হতে পারে।







