পুলিশের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাহেলের মৃত্যুর পর ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এই ঘটনায় সম্প্রতি ক্ষমা চেয়েছেন হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
বিবিসি জানিয়েছে, আজ ৩০ জুন শুক্রবার ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাহেলের মৃত্যুর ঘটনায় তৃতীয় দিনে নাহেলকে গুলি করা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ গঠিত হয়েছে। তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যার ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কারাগারে নয়, রাখা হয়েছে গৃহবন্দি করে। নিহত নাহেলের আইনজীবী বলেছেন, নাহেলের মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী ফ্রান্সের আইন ও বিচার ব্যবস্থা। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফ্রান্সের আগ্নেয়াস্ত্র আইন। ২০১৬ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর, পুলিশ বাহিনীর বিক্ষোভের মুখে আইনটি সংশোধন করা হয়।
সংশোধিত ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছিলো, চালক গাড়ি থামানোর নির্দেশ অমান্য করলে তার ওপর গুলি চালাতে পারবে পুলিশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের এই ধারাটি অত্যন্ত অস্পষ্ট। শুধু নাহেল নয়, ২০২২ সালে গাড়ি না থামানো ১৩ ব্যক্তির পুলিশের হাতে মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর জন্যেও ফ্রান্সের আগ্নেয়াস্ত্র আইনকেই দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও আশপাশের এলাকায় গণপরিবহণকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালালে বন্ধ হয়ে যায় শহরটির বাস ও ট্রাম সেবা। কিছু এলাকায় জারি হয় কারফিউ। বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সজুড়ে ৪০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।







