ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযান ‘মঙ্গলযান’ এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি শাড়ি স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে। ভারতীয় মহাকাশবিজ্ঞানী নন্দিনী হরিনাথ ঐতিহাসিক ওই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ দিনে যে শাড়িটি পরেছিলেন, সেটিই এখন জাদুঘরের প্রদর্শনীর অংশ।
আজ (৬ জুন) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, নন্দিনী হরিনাথ ছিলেন ভারতের মঙ্গলযান মিশনের উপ-অপারেশনস পরিচালক। ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর, যখন পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে মহাকাশযানটিকে মঙ্গলের উদ্দেশে পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, তখন তিনি লাল ও নীল রঙের একটি রেশমি শাড়ি পরেছিলেন। নন্দিনীর ভাষায়, সেটিই ছিল তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং পুরো মিশনের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ মুহূর্ত।
সেদিন ইসরোর বিজ্ঞানীরা মহাকাশযানটির গতিপথ, গতি ও সময় নির্ধারণের জটিল কাজ সম্পন্ন করেন। মিশনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছিল ওই দিনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ওপর। প্রায় ৩০০ দিনের যাত্রা শেষে ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সফলভাবে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছে যায় মঙ্গলযান। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের চতুর্থ দেশ বা মহাকাশ জোট হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করে।

মিশনের সফলতার পর ইসরোর নারী কর্মীদের উদ্যাপনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শাড়ি পরিহিত নারীদের সেই ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয় এবং মহাকাশ গবেষণায় নারীদের ভূমিকা নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরের মহাকাশ ইতিহাসবিষয়ক কিউরেটর ম্যাট শিনডেল জানান, ওই ছবিই তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল।
পরে ২০২০ সালে তিনি নন্দিনী হরিনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভারতের মঙ্গল অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন একটি স্মারক সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত নন্দিনীর পরা সেই শাড়িটিই জাদুঘরের সংগ্রহে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে শাড়িটি জাদুঘরের ‘ফিউচারস ইন স্পেস’ গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীর পাশাপাশি এটি রাখা হয়েছে।

দর্শনার্থীরা এতে করে শাড়িটির ইতিহাস এবং ভারতের মঙ্গল অভিযানে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছেন।জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, শাড়িটি শুধু ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযানের স্মারক নয়; এটি দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির সাফল্য, জাতীয় গর্ব এবং বিজ্ঞানক্ষেত্রে নারীদের অগ্রযাত্রার প্রতীকও। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি পরিচিত অনুষঙ্গ হিসেবে শাড়িটির বিশেষ সাংস্কৃতিক মূল্যও রয়েছে।







