গত কয়েকদিন রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট গুলোতে ক্রেতা সঙ্কট থাকলেও আজ বেচা-কেনা বেশ ভালো হচ্ছে। তবে বরাবরের মতো এবারও ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখের মধ্যে বেশি গরু খুঁজছেন।
রাজধানীর বসিলা, হাজারীবাগ, গাবতলী, তেজগাঁওসহ বেশ কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ঈদের আগে সর্বশেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এদিন সকাল থেকে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা। জুমার নামাজের পরপর ক্রেতাদের আনাগোনা আরও বাড়তে দেখা যায়। নির্ধারিত মাঠ ও আশেপাশের সড়কে থাকা গরু দেখে দামাদামি করতেও দেখা যায় ক্রেতাদের। তাদের উপস্থিতিতে হাট প্রাণ পাওয়ার পাশাপাশি বিক্রেতাদেরও খুশি দেখা যায়।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা কবির হোসেন ব্যাপারী জানান: তিনি ১৮টি গরু নিয়ে এসেছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটা গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। এই কদিন দুই-একজন ক্রেতা এসেছেন, তবে তারা দামাদামি করে চলে গেছেন। বেশিরভাগই দাম যাচাই করতে এসেছিলেন। ঈদের এখনও তিনদিন বাকি। আশা করছি বিকেল থেকে হাট জমজমাট হবে। সকাল থেকেই ক্রেতা বেড়েছে। জুমার পর থেকে আরও বাড়ছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা আনিচুর ব্যাপারী জানান: তিনি মোট ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে ৭টি বিক্রি হয়েছে। এই ক’দিন তেমন ক্রেতা ছিল না। গতকাল সন্ধ্যায় মোটামুটি ছিল, তবে ঝড় বৃষ্টির কারণে রাতে আর জমেনি। আজ যেহেতু ছুটির দিন। আবার ঈদের ছুটিও শুরু হয়েছে আশা করি ক্রেতা বাড়বে। আজ সকাল থেকে বেশ কয়েকটা গরু দামদামি হয়েছে। এখনও দুয়েকটা দামাদামি চলছে।
আরেক বিক্রেতা হিরন মিয়া বলেন: ২টি গরু বিক্রি করেছি। প্রতি মণ ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। সাড়ে চার মণ ওজনের একটি গরু ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আরেকটি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আজকে মানুষ শুধু দেখছে। বাজার জমবে কালকে। ক্রেতা আসে মোটামুটি ভালোই। মিডিয়াম সাইজের গরুর চাহিদা। গতকালের থেকে আজকে দাম কম বলছে। তবে প্রতি বছরের তুলনায় এবার কম আসছে গরু।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় গরু ও ছাগলের বিশাল হাট বসেছে। হাটে ৮০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা দামের গরু উঠেছে।
কোরবানির উদ্দেশ্যে তেজগাঁও পশুর হাটে গরু কিনতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী খায়রুল ইসলাম। তিনি আমাদের জানালেন, আজ দেখে কাল গরু নিবেন তিনি। বলেন: বিকেল অফিস শেষ করে এসেছি। এখনও দেখছি। গরুর দামটা মনে হচ্ছে একটু বেশি। আজকে কিনবো না, আজকে দেখছি। কাল বিকেলে এসে দাম মিলিয়ে নেব একটা।
হাট ঘুরে দেখা গেছে হাটে ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকার দামের গরু উঠেছে বেশি। বিভিন্ন রঙের গরুর মধ্যে লাল রঙের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
অন্যদিকে ক্রেতা কিছুটা বাড়লেও বিক্রির সঠিক তথ্য দিতে পারেনি হাসিল ঘরের দায়িত্বরতরা। তারা জানান: গতকাল থেকে বেচাবিক্রি বেড়েছে। আজকে সকাল থেকে মোটামুটি ছিল, বিকেলের দিকে আরও বাড়বে বলে আশা করি। তবে ঠিক কয়টা গরু হাটে এসেছে বা বিক্রি হয়েছে তার পরিপূর্ণ তথ্য এই মূহুর্তে নেই। সন্ধ্যার পর বিক্রির তথ্যটা হয়তো দিতে পারব। তবে গরু বা ছাগলের সংখ্যাটা আনলোড অফিস বা ইজারাদার বলতে পারবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট
দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কমলাপুর স্ট্রেডিয়াম সংলগ্ন এবং বিশ্বরোড সংলগ্ন লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব এলাকার আশপাশের খালি জায়গা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে শারুলিয়ার স্থায়ী হাট।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আওতাধীন ৯টি পশুর হাট
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কানচুকুরা বেপারিপাড়া রহমান নগর আবাসিক এলাকা, খিলক্ষেতের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন এলাকা, উত্তরার ১৬ ও ১৮ নাম্বার সেক্টরের বউ বাজার এলাকা এবং মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা ও মোহাম্মদপুর বসিলার ৪০ ফুট রোডের খোলা জায়গা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট।







